ইউরোপে স্থায়ী হতে ‘সহজ সুযোগ’ মাল্টার গোল্ডেন ভিসা

ইউরোপে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন? মাল্টা হতে পারে সেই স্বপ্ন পূরণের এক বড় সুযোগ। দেশটির ‘রেসিডেন্সি বাই ইনভেস্টমেন্ট’ বা জনপ্রিয়ভাবে পরিচিত গোল্ডেন ভিসা প্রোগ্রাম বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় অভিবাসন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত।

এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আবেদনকারীরা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, শেনজেন অঞ্চলে অবাধ ভ্রমণ, পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি এবং মাল্টায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়ে থাকেন — এমনকি সেখানে পূর্ণ সময় বসবাসের বাধ্যবাধকতাও নেই।

📌 সহজ শর্তে রেসিডেন্সির সুযোগ

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রোগ্রামে যোগ দিতে হলে আবেদনকারীদের আর্থিকভাবে সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে, মাল্টায় সম্পত্তি কিনতে বা ভাড়া নিতে হবে এবং সরকারের নির্ধারিত তহবিলে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করতে হবে। এরপর একটি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পেরোতে হয়।

মাত্র ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে এই ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভিসাধারীরা মাল্টায় বসবাসের অধিকার পান এবং শেনজেন অঞ্চলের দেশগুলোতে স্বল্পমেয়াদে অবাধে ভ্রমণ করতে পারেন।

👨‍👩‍👧 পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি

এই স্কিমে আবেদনকারীর স্ত্রী/স্বামী, সন্তান এবং নির্ভরশীল বাবা-মাকেও একই আবেদনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় — যা ইউরোপীয় রেসিডেন্সি প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।

🧾 যোগ্যতার শর্ত

  • আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
  • কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না।
  • অর্থের উৎস বৈধ ও যাচাইযোগ্য হতে হবে।
  • কমপক্ষে ৫ লাখ ইউরো (প্রায় ৭ কোটি ১২ লাখ টাকা) সম্পদ থাকতে হবে, যার অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার ইউরো (প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা) হতে হবে তরল সম্পদ হিসেবে।
  • বিকল্পভাবে, মোট ৫ লাখ ইউরোর সম্পদের সঙ্গে ৭৫ হাজার ইউরো আর্থিক সম্পদ থাকলেও আবেদন করা সম্ভব।

মাল্টা রেসিডেন্সি এজেন্সি আবেদনকারীদের ওপর চার ধাপের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালায়, যাতে অর্থের উৎস ও সম্পদের বৈধতা নিশ্চিত হয়।

💶 ফি ও আর্থিক প্রতিশ্রুতি

২০২৫ সাল থেকে মাল্টা সরকার আর্থিক প্রতিশ্রুতির কাঠামো আরও সহজ করেছে।

  • প্রধান আবেদনকারীর প্রশাসনিক ফি ৬০ হাজার ইউরো, যা দুই কিস্তিতে (১৫ হাজার + ৪৫ হাজার) পরিশোধযোগ্য।
  • প্রাপ্তবয়স্ক নির্ভরশীলদের জন্য ফি ৭,৫০০ ইউরো।
  • স্বামী/স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের জন্য ফি মওকুফ করা হয়েছে।
  • নিবন্ধিত মাল্টিজ এনজিওতে ২,০০০ ইউরো দাতব্য অবদান দিতে হয়।
  • মাল্টা ও যুক্তরাজ্য কভার করে এমন বৈধ স্বাস্থ্যবীমা থাকা বাধ্যতামূলক।

🏡 সম্পত্তি কেনা বা ভাড়া নেওয়ার শর্ত

  • আবেদনকারীদের মাল্টা বা গোজোতে যোগ্য রিয়েল এস্টেট কিনতে বা ভাড়া নিতে হবে এবং ৫ বছর ধরে রাখতে হবে।
  • সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মূল্য ৩,৭৫,০০০ ইউরো,
  • ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে বার্ষিক ন্যূনতম ১৪,০০০ ইউরো।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা সম্পত্তি কিনবেন তারা ভাড়া দিতে পারবেন এবং যারা ভাড়া নিচ্ছেন তারা নির্দিষ্ট শর্তে সাবলেট করতে পারবেন।

🪪 আবেদন প্রক্রিয়া

১️⃣ অনুমোদিত মাল্টিজ এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে।

২️⃣ প্রাথমিক যাচাই (KYC) শেষে আবেদনকারীদের পাসপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সম্পদের প্রমাণ, সম্পত্তির দলিল এবং স্বাস্থ্যবীমাসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়।

৩️⃣ আবেদন জমা দেওয়ার সময় ১৫ হাজার ইউরো প্রশাসনিক ফি দিতে হয়।

৪️⃣ প্রাথমিক অনুমোদনের পর অস্থায়ী রেসিডেন্স কার্ড ইস্যু হয়।

৫️⃣ সম্পত্তির মালিকানা বা ভাড়ার চুক্তি বজায় রাখার শর্তে চূড়ান্ত রেসিডেন্স সার্টিফিকেট ও কার্ড প্রদান করা হয়।

সূত্র: NDTV / মাল্টা রেসিডেন্সি এজেন্সি।