নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে উগান্ডা জুড়ে ব্যাপক গর্ব এবং আনন্দের স্রোত বইছে। উগান্ডায় জন্ম নেওয়া এবং দ্বৈত নাগরিকত্বধারী মামদানি এখন অনেকের কাছেই “আমাদের একজন” হিসেবে পরিচিত, এবং তার সাফল্য দেশটির তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি প্রখ্যাত উগান্ডান একাডেমিক প্রফেসর মাহমুদ মামদানি এবং খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারের সন্তান। তার এই আন্তর্জাতিক পরিচয় এবং সাফল্য উগান্ডার তরুণ সমাজে বিশেষ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষত যখন দেখা যায় যে উগান্ডা বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনসংখ্যার দেশ—সেখানে মধ্যম বয়স মাত্র ১৬.২ বছর (CIA World Factbook)।
উগান্ডার শীর্ষ সংবাদপত্রে কিশোর বয়সে ইন্টার্নশিপ করার সময় মামদানিকে যিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, সেই সাংবাদিক অ্যাঞ্জেলো ইজামা বিবিসিকে জানান, শুরুতে মামদানি ছিলেন “লাজুক”, তবে তার মধ্যে ছিল কাজ শেষ করার “অসাধারণ দৃঢ়তা”। ইজামা আরও জানান, মামদানি প্রায়ই উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার কথা বলেন, এবং শহরটির প্রতি তার একটি বিশেষ টান রয়েছে।
প্রফেসর মাহমুদ মামদানি দীর্ঘদিন উগান্ডার মেকেরেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। তিনি ও তার স্ত্রী পরিচিত হন কাম্পালায়, যখন মীরা নায়ার ‘মিসিসিপি মসালা’ চলচ্চিত্রের গবেষণার কাজে সেখানে ছিলেন—যে ছবিটি ইদি আমিনের শাসনামলে উগান্ডা থেকে এশীয়দের বহিষ্কারের কাহিনি তুলে ধরেছিল।
প্রফেসর মামদানি ঔপনিবেশিকবিরোধী গবেষণার জন্য পরিচিত, বিশেষ করে আফ্রিকার রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা, পরিচয় সংকট এবং ন্যায়বিচারের ওপর উপনিবেশবাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিশ্লেষণে তার কাজ উল্লেখযোগ্য।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে মামদানির বিজয়, তার পারিবারিক পটভূমি ও ব্যক্তিগত দৃঢ়তা মিলিয়ে উগান্ডায় নতুন এক উদ্দীপনার জন্ম দিয়েছে—যা দেশের তরুণদের সামনে গ্লোবাল নেতৃত্বের নতুন স্বপ্ন তুলে ধরছে।