ব্রিফিং বিতর্কে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের চিফ অব স্টাফ ম্যাকসুইনি দায়িত্বে বহাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগ্যান ম্যাকসুইনি ব্রিফিং বিতর্কে তার ভূমিকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন না বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ব্রিফিংয়ের অভিযোগ ঘিরে সরকারে টানাপড়েন তৈরি হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

বেশ কিছু সরকারি সূত্র ম্যাকসুইনিকে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিল। তাদের দাবি—স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিংসহ কয়েকজন মন্ত্রী নাকি প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন দাবি করে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়েছিল ম্যাকসুইনির ঘর থেকেই। এসব দাবি সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

তবে ম্যাকসুইনির ঘনিষ্ঠরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, অভিযোগের কোনোটিই সত্য নয়। তাদের ভাষ্য—“তিনি কোনও ভুল করেননি। তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। তিনি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনওভাবেই এসব ব্রিফিংয়ে যুক্ত ছিলেন না।”

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীপন্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, স্টারমার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। পাশাপাশি, ওয়েস স্ট্রিটিংসহ কয়েকজন মন্ত্রী নাকি প্রধানমন্ত্রীর জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেন—এমন ব্রিফিংও দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্টারমার বলেছেন, এসব ব্রিফিং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে হয়নি বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। উত্তর ওয়েলসে এক সফরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্রিফিং আমার কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে—এটি ডাউনিং স্ট্রিটের কেউ করেনি। তবে যে-ই করে থাকুক, আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”

দোষীদের বরখাস্ত করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মন্ত্রী বা ক্যাবিনেট সদস্যদের বিরুদ্ধে গোপনে ব্রিফিং করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটাই আমার প্রত্যাশা এবং আমি তা বাস্তবায়ন করব।”

ম্যাকসুইনির প্রতি তার আস্থার বিষয়ে লেবার নেতা স্পষ্টভাবে জানান, “অবশ্যই। আমি পুরো দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য দেশের জন্য কাজ করা।”

একজন লেবার এমপি বিবিসিকে বলেন, ধারাবাহিক সমালোচনার চাপের মধ্যে ম্যাকসুইনির ব্যক্তিগত সুস্থতা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।

উল্লেখ্য, ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনীতিতে ‘অফ দ্য রেকর্ড’ ব্রিফিং বহুদিনের প্রচলিত সংস্কৃতি। এসব ব্রিফিংয়ে বহু ক্ষেত্রে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দেওয়া হয়, যা সাংবাদিকেরা পুরো ঘটনাপ্রবাহ উপস্থাপনের জন্য ব্যবহার করেন।

সূত্র: বিবিসি