বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ডেডলাইন ঘনিয়ে আসায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ভিড়

আহমাদুল কবির | বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন জমার শেষ সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর ঘনিয়ে আসায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে গতকাল বিকেল ৫টা থেকে শতাধিক মানুষ জড়ো হন। তাদের মধ্যে নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধি ও বেসরকারি কর্মসংস্থান সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল—আবেদন জমা দেওয়ার জন্য কিউ নম্বর সংগ্রহ।

বারিতাহারিয়ান-এর খবরে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার সুযোগ না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগেই লাইনে দাঁড়ান। একটি বেসরকারি নিয়োগ সংস্থার প্রতিনিধি কেলভিন চিয়ং জানান, ক্লায়েন্টদের আবেদন নিয়ম অনুযায়ী জমা নিশ্চিত করতেই আগে আসা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, “চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু সময় দেওয়া হয়েছে কম। তাই নিয়োগকর্তারা যেন আবেদন জমার সুযোগ হাতছাড়া না করেন, সে জন্য আমাদের আগেভাগেই আসতে হচ্ছে।”

আবেদনকারীদের কয়েকজন জানান, নির্মাণ, উৎপাদন ও প্ল্যান্টেশন খাতে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা এখনো তীব্র রয়েছে। সে কারণেই কিউ নম্বর নিশ্চিত করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন তারা।

এদিকে মন্ত্রণালয় এলাকার আশপাশে সামান্য যানজট সৃষ্টি হলেও নিরাপত্তা কর্মীদের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি কিউ নম্বর দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ কোটার আবেদন গ্রহণ ৩১ ডিসেম্বর বন্ধ হবে। ফলে সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, উপস্থিতির সংখ্যাও তত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে সরকার কয়েক মাসের স্থগিতাদেশ তুলে নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন পুনরায় চালু করে। নির্মাণ, উৎপাদন, প্ল্যান্টেশন ও সেবা খাতে শ্রমিক সংকটের অভিযোগের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সেবা খাতের জন্য বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন সাধারণ সময়সীমার আগেই, ২৬ ডিসেম্বর বন্ধ করা হয়েছে।

এর আগে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল অনিবন্ধিত এজেন্টদের দমন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি শ্রমিক নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন খাতের প্রকৃত চাহিদা, শ্রম আইন মানা এবং নিয়োগকর্তাদের পূর্ববর্তী কমপ্লায়েন্স রেকর্ডের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অনুমোদন দেওয়া হবে।

সরকার আরও জানিয়েছে, এ ব্যবস্থা সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় শ্রমশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং শিল্পে অটোমেশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।