কারাকাসে ধোঁয়া কাটতে না কাটতেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের খবরে ভেনেজুয়েলাজুড়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রাজধানীর রাস্তায় মানুষের অনুভূতি কখনো আশাবাদী, কখনো আতঙ্কিত, আবার কোথাও তীব্র অনিশ্চয়তায় ভরা।
কারাকাস ভ্যালিতে রাতভর বিস্ফোরণের শব্দের পর সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কেউ কেউ উদযাপন করেছেন, আবার কেউ কেউ এই ঘটনাকে নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা দিনা বিবিসিকে বলেন, আপাতত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ “মাদুরোকে এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।” তাঁর ভাষায়, “এখন অন্তত আবার টানেলের শেষে কিছুটা আলো দেখতে পাচ্ছি।”
অন্যদিকে, মাদুরোর সমর্থকরাও চুপ নেই। রাজধানী কারাকাসে তারা রাস্তায় নেমে তাদের নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। সরকারের প্রতি অনুগত কারাকাসের মেয়র কারমেন মেলেন্দেজও এই বিক্ষোভে যোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মাদুরোর গ্রেপ্তারকে ‘অপহরণ’ বলে আখ্যা দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর গ্রেপ্তার ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় মোড় হলেও সামনে পথ সহজ নয়। অনেক ভেনেজুয়েলান আশা করছেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। তবে একই সঙ্গে রয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় ও অনিশ্চয়তা—কারা ক্ষমতায় আসবে, দেশ কোন পথে যাবে এবং সহিংসতা আদৌ থামবে কি না, সে প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত।
কারাকাসের রাস্তায় সাধারণ মানুষের কণ্ঠে একটাই কথা—মাদুরোর অধ্যায়ের পর ভেনেজুয়েলার সামনে “দীর্ঘ পথ” অপেক্ষা করছে।