ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। লাতিন আমেরিকার বাইরেও এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে, আর পরিস্থিতি গভীর নজরে পর্যবেক্ষণ করছে বেইজিং।
চীনের সরকার এই অভিযানকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিংয়ের মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ এবং ওয়াশিংটনের ‘আধিপত্যবাদী আচরণ’-এর আরেকটি উদাহরণ। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মানা এবং অন্য দেশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই প্রতিক্রিয়ার পেছনে রয়েছে বড় ধরনের উদ্বেগ। ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরেই লাতিন আমেরিকায় চীনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের একটি। জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। চীনা কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ব্যাপকভাবে যুক্ত, পাশাপাশি চীনের কাছে দেশটির বিপুল অঙ্কের ঋণ রয়েছে।
মার্কিন অভিযানের ফলে এই সম্পর্ক এখন নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে অস্থিরতা এবং তেল খাতে অনিশ্চয়তা চীনের বিনিয়োগকে ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ভবিষ্যতে চীনা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে, কারণ বেইজিং সাধারণত স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেয়।
আরও বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছে চীন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে একটি নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কথা বলে আসছে, যেখানে সার্বভৌমত্ব রক্ষাই মূল নীতি। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সেই কাঠামোকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়িয়ে কীভাবে নিজের স্বার্থ রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তিতে রয়েছে চীন।
এ ছাড়া আশঙ্কা রয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার অন্য দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে ভাবতে পারে। এতে অঞ্চলটিতে বেইজিংয়ের প্রভাব দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত চীন সরাসরি সংঘাতের পথে না গিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ওয়াশিংটনের কঠোর সমালোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জটিল ও ক্রমশ টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক সামাল দিতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো হিসেবি ভাবেই নিতে চাইছে বেইজিং।