ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের “ঝামেলাবাজ” ও “একদল দাঙ্গাবাজ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেতেই বিক্ষোভকারীরা সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।
শুক্রবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে খামেনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র “শত সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যারা এই বাস্তবতা অস্বীকার করে, তাদের চাপে রাষ্ট্র কখনোই পিছিয়ে যাবে না। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান এবং রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও উঠেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ থেকে ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নয়টি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআরএনজিও)। এ ছাড়া অন্তত ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ২ হাজার ২৭৭ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিবিসি পার্সিয়ান নিহত অন্তত ২২ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তবে বিবিসিসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ইরানের ভেতরে সরাসরি রিপোর্টিংয়ের অনুমতি নেই।
এদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি আর সহ্য করা হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের জনগণকে সহায়তায় হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্ষোভে নামার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে “খুব কঠোরভাবে আঘাত করবে”। ইরানে চলমান অস্থিরতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।