ইরানে তীব্র উত্তেজনা, প্রতিবাদকারীদের ‘উসকানিদাতা’ আখ্যা খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের “ঝামেলাবাজ” আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতেই রাস্তায় নেমেছে। একই সঙ্গে ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে চলমান বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।

শুক্রবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে খামেনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র কয়েক লক্ষ “সম্মানিত শহীদের রক্তের বিনিময়ে” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যারা এই বাস্তবতা অস্বীকার করে, তাদের চাপে রাষ্ট্র কখনোই পিছিয়ে যাবে না। পরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সমর্থকদের এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, ধ্বংসাত্মক শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ইরান পিছপা হবে না।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান “বড় বিপদে রয়েছে” এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জড়িত হলেও তা সরাসরি সামরিক উপস্থিতি বোঝায় না। এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ইরানকে “কঠোরভাবে আঘাত করা হবে”।

গত ১৩ দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভ শুরু হয় অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে। পরে তা সরকারের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়, যেখানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান এবং রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অন্তত ৫১, যার মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ইরানে ব্যাপক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ২৮ ডিসেম্বরের পর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৭৭ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিবিসি পার্সিয়ান নিহত অন্তত ২২ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে, তবে বিবিসিসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ইরানের ভেতরে রিপোর্টিংয়ের অনুমতি নেই।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বিক্ষোভকারীদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা ইরানি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিকও প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে।

এদিকে ইরানের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগ কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বিক্ষোভকারীদের ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে জানায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা বলেছে, তারা তথাকথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করবে না।

এ অবস্থায় ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জনগণের পক্ষে হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিক্ষোভে নামার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র : বিবিসি