ইরান চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, একাধিক হাসপাতাল এখন কার্যত সংকটকালীন অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে।

তেহরানের একটি বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, তাদের হাসপাতাল ইতোমধ্যে ‘ক্রাইসিস মোডে’ চলে গেছে। জরুরি বিভাগে আহত রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছে। জরুরি নয় এমন ভর্তি ও অস্ত্রোপচার বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক ও কর্মীদের ডেকে আনা হয়েছে।

বিবিসি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজের একটি হাসপাতালের এক মেডিকের কাছ থেকেও একটি ভিডিও ও অডিও বার্তা পেয়েছে। ওই মেডিক জানান, হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক আহত মানুষ আনা হচ্ছে, কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সার্জন নেই। তার দাবি, আহতদের অনেকের মাথা ও চোখে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া তেহরানের আরেকটি হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মীও বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান “বড় বিপদে” রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “তোমরা যদি গুলি চালানো শুরু করো, আমরাও গুলি চালাব।” এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলেছে, ওয়াশিংটন বিক্ষোভকে “সহিংস ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে” রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

দেশজুড়ে এসব সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুক্রবারও অব্যাহত ছিল। দুটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইরানের ভেতরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সরাসরি প্রতিবেদন নিষিদ্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিছু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে।

Source : BBC