লন্ডনে কার্যক্রম বাড়ানোর আমন্ত্রণ Anthropic-কে, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ সাদিক খানের

লন্ডনের মেয়র Sadiq Khan মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি Anthropic-কে লন্ডনে তাদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মেয়র খান কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী Dario Amodei-কে লেখা এক চিঠিতে বলেন, নৈতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কোম্পানিটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, এ ধরনের আচরণ Anthropic-কে ভয় দেখানো ও শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর United States Department of Defense (পেন্টাগন) Anthropic-কে “সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি” হিসেবে চিহ্নিত করে। এর আগে কোম্পানির প্রধান ডারিও আমোদেই মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোকে তাদের AI প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

জানা গেছে, আমোদেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে Anthropic-এর AI মডেল “Claude” ব্যবহার করে ব্যাপক গোপন নজরদারি বা স্বয়ংক্রিয় সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে পেন্টাগন বলেছে, প্রযুক্তি আইনসম্মত সব উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করার অধিকার তাদের থাকা উচিত এবং যেসব আশঙ্কা করা হচ্ছে সেগুলো বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি ঘোষণা দেন যে তিনি ফেডারেল সংস্থাগুলোকে Anthropic-এর প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দেবেন। এ নিয়ে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, “একটি ‘ওয়োক’ কোম্পানি কীভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধ করবে তা নির্ধারণ করতে পারে না।”

মেয়র সাদিক খান তার চিঠিতে Anthropic-এর অবস্থানকে প্রশংসা করে বলেন, চাপের মুখেও কোম্পানিটি নৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছে। তিনি আরও জানান, লন্ডন ভবিষ্যতে Anthropic-এর জন্য বড় ধরনের প্রযুক্তি কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে এবং এ বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি আগ্রহী।

এরই মধ্যে কোম্পানিটি পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে প্রযুক্তি জায়ান্ট Microsoft জানিয়েছে, তারা তাদের গ্রাহকদের জন্য Anthropic-এর প্রযুক্তি ব্যবহার অব্যাহত রাখবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকলে লন্ডন Anthropic-এর জন্য বিকল্প প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।