লেবারের ভেতরে বিদ্রোহে প্রবল রাজনৈতিক চাপে স্টারমার, ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগে তোলপাড়

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

দলের ইতিহাসে বিরল এক পদক্ষেপ হিসেবে স্ট্রিটিং একটি পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থাৎ, স্টারমার পদে থাকবেন কি না—তা নির্ধারণ হোক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে, এমনটাই তার দাবি।

স্ট্রিটিংকে লেবারের ডানপন্থী অংশের প্রভাবশালী মুখ হিসেবে দেখা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলের ভেতরে সমর্থন গড়ে তুলছেন—এমন আলোচনা ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে। এবার তিনি এমপিদের কাছ থেকে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করেন। তবে স্টারমারকে লেখা চিঠিতে তিনি নিজেকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেননি। বরং একটি উন্মুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নেন। সেখানে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামসহ যোগ্য নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

চিঠিতে স্ট্রিটিং বলেন, স্পষ্ট হয়ে গেছে যে স্টারমার আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবারকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন কি না—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন আছে। তার মতে, লেবার এমপি ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো এখন এমন একটি বিতর্ক চায় যেখানে মূল ফোকাস হবে নীতি ও আদর্শ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়।

স্টারমারের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ভিন্নমত দমনের কঠোর আচরণ দলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে তিনি শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কমানো এবং বিতর্কিত ‘আইল্যান্ড অব স্ট্রেঞ্জার্স’ বক্তব্যসহ একাধিক সিদ্ধান্তকে দলের জনপ্রিয়তা কমার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনের খারাপ ফলও তিনি নেতৃত্বের ব্যর্থতা হিসেবে দেখান।

মঙ্গলবার বৈঠকে স্টারমারকে সরাসরি নিজের আস্থাহীনতার কথা জানান স্ট্রিটিং। একই দিনে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেস ফিলিপস, জুবির আহমেদ ও অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্সও পদত্যাগ করে তার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

স্টারমার যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে যেকোনো নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রার্থী থাকবেন—এবং তার সমর্থকরা জানিয়েছেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি লড়াই করবেন।

মাত্র দুই বছর আগে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা লেবার সরকার এখন ভেতর ও বাইরে থেকে চাপের মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দলের ভেতরে গভীর বিভাজন ও অনিশ্চয়তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান