নিউজ রিপোর্ট: ভোটের আমেজে যেন ঈদের ছোঁয়া লেগেছে কুমিল্লায়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে দূরবর্তী জেলার মানুষজনের বাড়ি ফেরা এখন আবেগঘন এক উৎসবে রূপ নিয়েছে। পরিবারের টান আর নাগরিক দায়িত্বের মেলবন্ধনে কুমিল্লার বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে মানুষের উপচে পড়া ঢল।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল থেকেই কুমিল্লার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দেখা গেছে যানবাহনের তীব্র চাপ। বড় অঙ্কের যাতায়াত ব্যয় বহন করেও কর্মজীবী মানুষ ছুটে যাচ্ছেন নিজ নিজ গ্রামে, শুধুমাত্র ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য।
কারও হাতে ব্যাগ, কারও কোলে শিশু—সবার চোখেমুখে এক ধরনের তৃপ্তি। যেন এবারের সবচেয়ে বড় উৎসবই হলো ভোট দেওয়া। চাকরি, ব্যবসা কিংবা পড়াশোনার প্রয়োজনে কুমিল্লায় বসবাসকারী মানুষের বড় একটি অংশ নির্বাচনে অংশ নিতে নিজ নিজ জেলায় ফিরে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে কুমিল্লা ইপিজেডে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই বলছেন, বছরের পর বছর কাজের ব্যস্ততায় ভোট দেওয়া হয়ে ওঠে না, কিন্তু এবার সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না।
কুমিল্লা ইপিজেডের সামনে কথা হয় কুড়িগ্রামগামী যাত্রী জুয়েল রানার সঙ্গে। তিনি বলেন, সারা বছর কাজের চাপে বাড়ি যাওয়া হয় না। সাধারণত বছরে দুই ঈদে বাড়ি যাই। এবার ভোট উপলক্ষে স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করব, আবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটও দেব। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
একই অনুভূতির কথা জানান নীলফামারীর বাসিন্দা ও কুমিল্লায় কর্মরত গার্মেন্টস কর্মী আয়েশা আক্তার। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে টিকিট জোগাড় করেছি। ১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। এই আনন্দেই নিজের কষ্টার্জিত টাকা খরচ করে বাড়ি যাচ্ছি। ভোটের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।
রেলস্টেশনগুলোতেও দেখা গেছে একই চিত্র। ট্রেনের ভেতরের প্রতিটি আসন পূর্ণ, অনেক ক্ষেত্রে ছাদেও যাত্রী দেখা গেছে। যাত্রীদের ভিড়ে মুখর কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন। দীর্ঘ ভ্রমণ ও ভিড়ের মধ্যেও কারও মুখে বিরক্তির ছাপ নেই, বরং চোখেমুখে রয়েছে উৎসবের আনন্দ আর দায়িত্ব পালনের তৃপ্তি।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জেলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা থেকে বাড়ি ফেরা মানুষজন প্রমাণ করছেন—ভোট শুধু একটি অধিকার নয়, এটি একটি উৎসব, একটি দায়িত্ব এবং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
