জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত নীতি এবং চীনের ভূমিকা 

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত নীতি এবং চীনের ভূমিকা নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে একটি মিশ্র বার্তা পাওয়া যায়। যদিও তিনি সরাসরি জলবায়ু বিজ্ঞানকে “ধাপ্পাবাজি” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তার বক্তব্যের কিছু অংশ থেকে মনে হয়েছে যে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলোকে একপ্রকার স্বীকার করে নিচ্ছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, “চীন বিশ্বের সব উন্নত দেশের চেয়ে বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদন করে, যেখানে এই দেশগুলো তাদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে এত কঠোর পরিশ্রম করছে।” এরপর তিনি এই প্রচেষ্টাকে “বাজে কথা” বলে উড়িয়ে দেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন পরিবেশ নীতির প্রতি নিজের অনাস্থা প্রকাশ করেছেন, তেমনি অন্যদিকে চীনকে বৈশ্বিক পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী করেছেন।

তিনি গর্বের সঙ্গে দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বায়ু বহু বছর ধরে সবচেয়ে পরিষ্কার। তিনি বলেন, “আমাদের অনেক বছর ধরে সবচেয়ে পরিষ্কার বায়ু রয়েছে।” তিনি আমেরিকার এই সাফল্যের জন্য “ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট”-এর মতো কঠোর পরিবেশগত নিয়মাবলীকে কৃতিত্ব না দিলেও, তার এই মন্তব্য আমেরিকার পরিবেশগত উন্নতির প্রমাণ দেয়।

ট্রাম্প সরাসরি চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিষ্কার বায়ু নষ্ট করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন, কারণ তাদের দূষিত বায়ু নাকি যুক্তরাষ্ট্রে এসে পৌঁছাচ্ছে। এর মাধ্যমে তিনি পরিবেশ দূষণের একটি বাস্তব দিককে স্বীকার করে নিয়েছেন, যদিও এর দায়ভার তিনি চীনের ওপর চাপিয়েছেন।

ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি “ধাপ্পাবাজি” বললেও, তিনি ইউরোপে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করেন। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন যে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ১ লাখ ৮১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্য থেকে মনে হয় যে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাবগুলোকে পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারছেন না।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট নয় যে তিনি সবুজ নীতির বিরুদ্ধে নাকি চীনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। তিনি একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনকে অস্বীকার করছেন, আবার এর কিছু প্রভাবকে তুলে ধরছেন। এটি থেকে বোঝা যায়, তিনি মূলত জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং এর মাধ্যমে চীনের বিরুদ্ধে তার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চাইছেন।