স্কটিশ লেবার পার্টির এমএসপি ফয়সল চৌধুরীকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে “অনুপযুক্ত আচরণের” অভিযোগ উঠেছে — যদিও ঠিক কী হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
২০২১ সাল থেকে লোথিয়ান এলাকা থেকে এমএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চৌধুরী। তদন্ত চলাকালে তিনি একজন স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে স্কটিশ পার্লামেন্টে বসবেন।
লেবার পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সব অভিযোগ “গুরুত্ব সহকারে” গ্রহণ করে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের দলের নিয়ম অনুসারে প্রতিটি অভিযোগ পূর্ণ তদন্তের আওতায় আনা হয় এবং যেটা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
জানা গেছে, অভিযোগের পর চৌধুরীকে “প্রশাসনিকভাবে বরখাস্ত” করা হয়েছে।
এর আগেই, আরেক লেবার এমএসপি কলিন স্মিথকে বরখাস্ত করা হয়েছিল অশালীন ছবি রাখার অভিযোগে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে স্কটিশ পার্লামেন্টের টয়লেটে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগও ওঠে — যদিও স্মিথ এসব অস্বীকার করেছেন।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুটি বরখাস্তের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।
চৌধুরীর বরখাস্তের খবরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির এমপি কার্স্টি ব্ল্যাকম্যান। তিনি স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি “তৎক্ষণাৎ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন কেন আবার একজন লেবার এমএসপি বরখাস্ত হলেন।”
তিনি বলেন, “জনগণের জানার অধিকার আছে। পার্টি সম্মেলনের ঠিক আগেই আরেকটা কেলেঙ্কারি — লেবার পার্টি যে সংকটে আছে, সেটা স্পষ্ট।”
স্কটিশ কনজারভেটিভ দলের ডেপুটি লিডার র্যাচেল হ্যামিল্টনের কথাও কিছুটা একইরকম। তিনি বলেন, “সম্মেলনের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা প্রমাণ করে, লেবার এখন বিশৃঙ্খলার মধ্যে আছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “স্যার কেয়ার স্টারমারের উপর আস্থা ভেঙে পড়েছে—প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, সিদ্ধান্ত বদল, বিতর্কিত ডিজিটাল আইডি প্রকল্প, আনাস সারওয়ারের অদ্ভুত মন্তব্য… এখন আবার একজন এমএসপি বরখাস্ত। লেবার পার্টির উচিত, যা ঘটেছে, তা নিয়ে পুরোপুরি স্বচ্ছ থাকা।”
ফয়সল চৌধুরী এডিনবার্গ ও লোথিয়ানস রিজিওনাল ইক্যুয়ালিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। তিনি এডিনবার্গ মেলা নামে পরিচিত বাৎসরিক বহু-সংস্কৃতিক উৎসবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে সেখানে উপ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।