ডোনাল্ড ট্রাম্প নব নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির নিউ ইয়র্ক এজেন্ডাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন

অনলাইন ডেস্ক ৮ নভেম্বর: ২০২৫

নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি জয়ের পরপরই দৃষ্টি ঘুরিয়েছেন নতুন প্রতিপক্ষের দিকে — যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার বিজয় ভাষণে মামদানি সরাসরি প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন,“ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেহেতু আমি জানি আপনি দেখছেন, আমার চারটি শব্দ আছে আপনার জন্য — ভলিউম বাড়িয়ে দিন।”
এর কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখলেন:৩৪ বছর বয়সী মামদানিকে ট্রাম্প “ডেমোক্রেটিক পার্টির কমিউনিস্ট ভবিষ্যৎ” বলে অভিহিত করেছেন। নির্বাচনে তিনি মামদানির প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে সমর্থন করেছিলেন, যিনি স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, নিউ ইয়র্ক মামদানিকে বেছে নিলে তিনি শহরটির ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করবেন। মামদানির জয়ের পরদিনই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মানুষ নিউ ইয়র্ক থেকে পালাবে।”

ট্রাম্পের এ ধরনের হস্তক্ষেপ নতুন নয়। নিউ ইয়র্কে জন্ম নেওয়া এই সাবেক ব্যবসায়ী-প্রেসিডেন্ট অতীতেও শহরের নীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন—অভিবাসন অভিযান জোরদার থেকে শুরু করে কনজেশন প্রাইসিং নীতি বাতিল পর্যন্ত।

তবে মামদানি এসব হুমকিতে বিচলিত নন। তার ভাষায়,

“যদি কেউ ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা প্রতারিত একটি জাতিকে দেখাতে পারে কীভাবে তাকে পরাজিত করতে হয়, তবে সেটা সেই শহরই পারবে — যে শহর তাকে জন্ম দিয়েছে।”

ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছেন—জাতীয় গার্ড মোতায়েন, অভিবাসন দমন ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে। গত ১ অক্টোবর থেকে সরকার আংশিকভাবে বন্ধ হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন শহরের বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল তহবিল স্থগিত করেছেন। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার (প্রায় £১৩.৬ বিলিয়ন) অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থও অন্তর্ভুক্ত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প চাইলে আরও তহবিল কাটছাঁট করতে পারেন, যা মামদানির জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিজেকে “ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট” হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি বিনামূল্যে ও দ্রুতগামী বাস সেবা, ভাড়ানিয়ন্ত্রিত আবাসনের ভাড়া স্থগিত, সার্বজনীন শিশুসেবা এবং শহর পরিচালিত মুদি দোকান চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ জুলিয়ান জেলাইজার বলেন,

“বাস্তবতা হলো, নবনির্বাচিত মেয়রকে তার মনোযোগের বড় অংশ ট্রাম্পের আক্রমণ ঠেকাতে ব্যয় করতে হবে, নিজের শহর উন্নয়নের পরিকল্পনায় নয়। এটি শহরের জন্যও সমস্যা এবং মেয়রের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।”

সূত্র: বিবিসি