আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিরা আর স্থায়ীভাবে সেখানে থাকতে পারবেন না—আগামী ১৭ই নভেম্বর সোমবার এক নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে ব্রিটিশ সরকারের অভ্যন্তরীণ দপ্তর থেকে। নতুন নীতির ফলে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের শুধুমাত্র অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি নিরাপদ হলে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
ব্রিটেনের হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ জানান, শরণার্থীদের জন্য “স্থায়ী সুরক্ষার যুগ শেষ”। তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো আশ্রয় আবেদন হ্রাস করা এবং ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অনুপ্রবেশ কমানো।
বর্তমান ব্যবস্থায়, যুক্তরাজ্যে শরণার্থী মর্যাদা পাঁচ বছরের জন্য বৈধ থাকে। এরপর তারা indefinite leave to remain অর্থাৎ স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি এবং পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে।
নতুন নীতিতে এই পথ বন্ধ হয়ে যাবে। আশ্রয়প্রার্থীদের স্ট্যাটাস নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং তাদের দেশ নিরাপদ বলে বিবেচিত হলেই ফেরত পাঠানো হবে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা লোকজনের জন্য ইতোমধ্যেই কিছু অস্থায়ী স্কিম চালু রয়েছে। শুরুতে তিন বছরের জন্য অনুমতি দেওয়া হলেও পরে তা বাড়ানো হয়েছে। তবে এবার এই অস্থায়ী নীতিকে সকল সফল আশ্রয়প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য।
সরকারি মহল বলছে, এটি “বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন” এবং এর রূপরেখা নেওয়া হয়েছে ডেনমার্কের মডেল থেকে—যা ইউরোপের সবচেয়ে কঠোর আশ্রয়ব্যবস্থার মধ্যে একটি।
ডেনমার্কে শরণার্থীরা সাধারণত দুই বছরের অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি পান এবং মেয়াদ শেষে তাদের আবার আবেদন করতে হয়। আগে নবায়ন সহজ ছিল, এখন সেই সুবিধা বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে একাধিকবার অনুমতি বাড়ানোর পরও নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ আরও দীর্ঘ এবং কঠিন হয়ে উঠেছে।
ডেনিশ এই কড়া পদ্ধতির প্রশংসা করছেন যুক্তরাজ্যের অনেক মন্ত্রী, যার মধ্যে মাহমুদও রয়েছেন। সরকারের ধারণা, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা ডেনমার্কে অভিবাসন নীতিতে কঠোর হওয়ায় তাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে এবং ডানপন্থী পপুলিস্ট পিপলস পার্টি–র প্রভাব কমেছে।
হোম সেক্রেটারি সতর্ক করে বলেন—লেবার পার্টি যদি একই ধরনের নীতি গ্রহণ না করে, তবে “আরও অন্ধকার শক্তি” যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।