যুক্তরাজ্য, বিশেষ করে লন্ডন, দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য কালো টাকা সাদা করার একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। লন্ডনের বিলাসবহুল সম্পত্তিগুলো এশিয়ার বিভিন্ন দেশের দুর্নীতি থেকে অর্জিত অর্থের একটি নীরব সাক্ষী।মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের বিরুদ্ধে লন্ডনে অবৈধ সম্পদ থাকার অভিযোগ উঠেছে। মালয়েশিয়ার তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে প্রয়াত ব্যবসায়ী দাইম জাইনুদ্দিনের ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পত্তি জব্দ করেছে, যা লন্ডনে অবস্থিত।
এই অবৈধ অর্থ প্রায়শই শেল কোম্পানি এবং অফশোর কাঠামোর মাধ্যমে পাচার করা হয়।বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগীদের মালিকানাধীন প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বিলাসবহুল সম্পত্তি ব্রিটিশ ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) জব্দ করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তদন্তে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিককে ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ব্রিটেনের আইনি ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং কেম্যান আইল্যান্ডসের মতো ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরিগুলো এখনো অর্থ পাচারের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
দুর্নীতিগ্রস্ত এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জাতিসংঘ অনুমান করে যে উন্নয়নশীল দেশগুলো ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে বছরে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হারায়। এই অর্থ পুনরুদ্ধার করা দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ নয়, সিঙ্গাপুরেও অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতরা লন্ডনে সম্পত্তি কিনেছিল। নেপাল ও ইন্দোনেশিয়ায়ও রাজনৈতিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা গণবিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।