অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি আবারও বিতর্কে উত্তপ্ত হয়েছে সিনেটর পলিন হ্যানসন বুরকা পরে সংসদে উপস্থিত হওয়ার পর। সোমবার তিনি এই কাণ্ড ঘটান ঠিক তখনই, যখন সহকর্মী সিনেটররা তাকে দেশে পূর্ণ মুখ আবরণ নিষিদ্ধ করার বিল উপস্থাপন করতে বাধা দেন। হ্যানসন কুইন্সল্যান্ডের কঠোর অভিবাসনবিরোধী দল ‘ওয়ান নেশন’-এর প্রতিনিধি।
হ্যানসন বুরকা খোলার নির্দেশ উপেক্ষা করায় সিনেটের কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করতে হয়। এতে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। মুসলিম গ্রিনস পার্টির সিনেটর মেহরিন ফারুকি ঘটনাটিকে “স্পষ্ট বর্ণবাদ” বলে আখ্যা দেন। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র সিনেটর ফাতিমা পেইম্যান এটিকে “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেন।
সরকারের সিনেট নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং হ্যানসনের আচরণকে “অসম্মানজনক” হিসেবে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, সিনেটরদের উচিত সব ধর্ম ও পটভূমির প্রতিনিধিদের প্রতি শালীন আচরণ করা। হ্যানসন “অস্ট্রেলিয়ান সিনেটের সদস্য হিসেবে যোগ্য নন” বলেও মন্তব্য করেন তিনি এবং বুরকা না খোলায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাব দেন।
পরবর্তীতে ফেসবুকে হ্যানসন লিখেছেন, “যদি তারা না চায় আমি এটা পরি—তাহলে বুরকা নিষিদ্ধ করুন।” এটি তার দ্বিতীয়বার সংসদে বুরকা পরা; এর আগে ২০১৭ সালে তিনি একই দাবি তুলতে সংসদে বুরকা পরে হাজির হয়েছিলেন।
অভিবাসন ও বহুসংস্কৃতিবাদের বিরোধিতার কারণে হ্যানসন আগে থেকেই বিতর্কিত। ২০১৬ সালে তার প্রথম সিনেট ভাষণে তিনি দাবি করেছিলেন, অস্ট্রেলিয়া “মুসলিমদের দ্বারা প্লাবিত হওয়ার” ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগেও ১৯৯৬ সালে তিনি বলেছিলেন, দেশটি “এশীয়দের দ্বারা প্লাবিত” হচ্ছে।