হাসিনার গুলির সামনে দাঁড়াতে ভয় পাইনি, কারও ভাঙা ডিমে কিছুই আসে যায় না: আখতার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডিম নিক্ষেপ করে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আখতার হোসেন বলেছেন, “আমরা সেই প্রজন্ম, যারা হাসিনার গুলির সামনে দাঁড়াতে ভয় পায়নি। অতএব, কারও ভাঙা ডিমে আমাদের কিছু যায় আসে না।”

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সময় বিকেলে ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিমানবন্দরের ঘটনা প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, “আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আগেও এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে। আগেও উপদেষ্টারা এসেছেন এবং তাদের ওপর তারা এমন আক্রমণ করার চেষ্টা করেছেন। দেশেও আমরা আওয়ামী লীগের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে থাকি। কিন্তু আমরা এতে ভীত নই।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মানুষের ওপর সন্ত্রাস করতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশে। মানুষ তাদের সর্বোচ্চ সাহস দিয়ে আগেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধাবোধ করেনি। সামনের দিনগুলোতেও আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ তাদের সন্ত্রাসকে নিয়ে আর ফিরে আসতে পারবে না।”

এর আগে হোটেলে পৌঁছে আখতার হোসেন এবং এনসিপির আমেরিকায় বসবাসরত নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান দেন। এ সময় তারা আরও স্লোগান দেন, “ওয়ান টু থ্রি ফোর ফ্যাসিবাদ নো মোর”, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ মুজিববাদ মুর্দাবাদ”, “বিচার চাই বিচার চাই শেখ হাসিনার বিচার চাই” এবং “গণহত্যার বিচার চাই শেখ হাসিনার বিচার চাই”।

প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় দুপুরে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনীম জারাকে ঘিরে আওয়ামী লীগ কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। তাসনীম জারাকেও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশের সহায়তায় তারা বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন।