ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যে সাত দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন, তা মূলত সংকটকে মানবিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত দিক থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধানের কাঠামো দেওয়ার চেষ্টা।
১. আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি:
মিয়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার নিশ্চিতে বৈশ্বিক চাপ অব্যাহত রাখা জরুরি। এ ছাড়া মিয়ানমারের সামরিক সরকারের ওপর বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোই কার্যকর পথ।
২. বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়ন:
বাংলাদেশ একাই এই বোঝা বহন করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা জরুরি, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে।
. নিরাপদ প্রত্যাবাসন:
প্রত্যাবাসনকে অবশ্যই স্বেচ্ছা, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হলে তা আবারও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
৪.জাতিসংঘের সক্রিয় ভূমিকা:
কেবল মানবিক সহায়তাই নয়, রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতেও জাতিসংঘকে শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে।
৫.আন্তর্জাতিক জবাবদিহি:
যারা গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত, তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ ঠেকানো সম্ভব হবে।
৬.আঞ্চলিক সহযোগিতা:
রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সমস্যা নয়, বরং মানবপাচার, সন্ত্রাসবাদসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। এজন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
৭.অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া:
মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ না থাকলে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে হবে।