সীতাকুণ্ডে রিকশাচালক কিশোরকে গলা কেটে হত্যা, আটক ২

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাত ১৫ বছরের কিশোর হাবিবুর রহমান জিহাদ। মঙ্গলবার রাতে সেই রিকশা চালাতে বেরিয়েই আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। পরদিন সকালে ডোবা থেকে পাওয়া যায় তার গলা কাটা মরদেহ।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌরসভার শেখপাড়া এলাকার একটি ডোবায় পাওয়া যায় জিহাদের লাশ। পুলিশের ধারণা, রিকশা ছিনিয়ে নিতে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয়রা দুইজন সন্দেহভাজন—বাপ্পি (২৮) ও রাজিব (২৫)—কে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। দু’জনেই সন্দ্বীপের হারামিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

নিহত জিহাদ সন্দ্বীপের মুছাপুর ইউনিয়নের দিদারুল আলমের ছেলে। পরিবার নিয়ে থাকত সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোডের সোবাহানবাগ এলাকায়। পড়ত স্থানীয় জিনিয়াস স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে। আর পরিবার চালাতে রাতের বেলায় চালাত ব্যাটারিচালিত রিকশা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে রিকশা নিয়ে বের হয় জিহাদ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ই দুই ছিনতাইকারী তাকে ভাড়া করে শেখপাড়া এলাকায় নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। পরে তাকে গলা কেটে হত্যা করে রিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।

বুধবার সকালে তারা রিকশাটি বিক্রি করতে যায় ভাটিয়ারী ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকার একটি গ্যারেজে। কিন্তু গ্যারেজ মালিকের সন্দেহ হয়। রিকশার পেছনে থাকা মালিকের নম্বরে ফোন দিলে সব ফাঁস হয়ে যায়। স্থানীয়রা দুজনকে ধরে ফেলে এবং পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি ও রাজিব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, কোথায় ফেলে এসেছে জিহাদের মরদেহ। পরে তাদের দেখানো জায়গা থেকেই উদ্ধার করা হয় লাশ। ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ একটি ছুরিও উদ্ধার করেছে, যেটা হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, “ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই জিহাদকে হত্যা করা হয়েছে। রিকশাটি বিক্রির সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে দুজনকে আটক করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”