বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক আবারও গড়লেন নতুন রেকর্ড। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে তাঁর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার—ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ারস ট্র্যাকার অনুযায়ী। এই প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তির সম্পদ ৫০ হাজার কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করল- যা তাঁকে বিশ্বের প্রথম “হাফ-ট্রিলিয়নিয়ার” বানিয়েছে।
ডিসেম্বরে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করার পর, মাস্ক এখন দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ল্যারি এলিসনের চেয়ে ১৫০ বিলিয়ন ডলার এগিয়ে আছেন। অর্থাৎ, তিনি এখন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে অর্ধেকটা পথ পেরিয়ে এসেছেন।
টেসলার শেয়ার বুধবার প্রায় ৪% বেড়েছিল, যা মাস্কের সম্পদে প্রায় ৯.৩ বিলিয়ন ডলার যোগ করেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, মাস্ক আবারও টেসলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন, তাই শেয়ারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এপ্রিলের আয় ঘোষণায় মাস্ক জানিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের “ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (DOGE)” থেকে সরে এসে আবার টেসলায় সময় দেবেন। সেই ঘোষণার পর থেকে টেসলার শেয়ারের দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এখন কোম্পানির বাজারমূল্য আবার ডিসেম্বরের সর্বোচ্চ অবস্থানের ১০% এর মধ্যে চলে এসেছে। টেসলায় মাস্কের ১২% মালিকানা বর্তমানে প্রায় ১৯১ বিলিয়ন ডলার।
তবে এই হিসাবে মাস্কের ২০১৮ সালের সিইও প্যাকেজে থাকা পারফরম্যান্স-ভিত্তিক শেয়ার বিকল্প ধরা হয়নি—যার মূল্য আজ হলে ১৩৩ বিলিয়ন ডলার হতো। সেই প্যাকেজটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক ডেলাওয়্যার আদালত বাতিল করে দেয়। মাস্ক এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, আর ফোর্বস এখন ওই শেয়ারের মূল্য ৫০% কম ধরে হিসাব করছে। এদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে টেসলার পরিচালনা পর্ষদ মাস্কের জন্য আরও এক নতুন রেকর্ড পরিমাণ পারিশ্রমিক প্যাকেজ প্রস্তাব করেছে—যার আওতায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে তিনি এক ট্রিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ শেয়ার পেতে পারেন।
মাস্কের সম্পদের উৎস শুধু টেসলা নয়। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স এখন ৪০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কোম্পানি, যা গত ডিসেম্বরে ছিল ৩৫০ বিলিয়ন। মাস্কের সেখানে আনুমানিক ৪২% মালিকানা রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য ১৬৮ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া, চলতি বছরের মার্চে মাস্ক তাঁর নতুন এআই কোম্পানি xAI কে টুইটার (বর্তমানে X)-এর সঙ্গে একীভূত করে গঠন করেন xAI হোল্ডিংস। এই নতুন কোম্পানির মূল্য ধরা হয়েছে ১১৩ বিলিয়ন ডলার, যার ৫৩% মালিকানা মাস্কের—মূল্যমান প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার।
মাত্র পাঁচ বছর আগে, ২০২০ সালের মার্চে মাস্কের সম্পদ ছিল মাত্র ২৪.৬ বিলিয়ন ডলার। এরপর টেসলার শেয়ারবাজারের উল্লম্ফনে আগস্ট ২০২০-তে তিনি ১০০ বিলিয়নের ক্লাবে প্রবেশ করেন। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হন—তখন তাঁর সম্পদ ছিল প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার। এরপর সেপ্টেম্বর ২০২১-এ তিনি হন বিশ্বের তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি ২০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক হন (অ্যামাজনের জেফ বেজোস ও ফরাসি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড LVMH-এর বার্নার্ড আর্নোর পর)। নভেম্বর ২০২১-এ তাঁর সম্পদ পৌঁছে ৩০০ বিলিয়নে, আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা দাঁড়ায় ৪০০ বিলিয়নে।
এই গতি ধরে রাখতে পারলে, মাস্ক ২০৩৩ সালের মার্চের আগেই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়ে উঠতে পারেন—ঠিক তখনই টেসলার সেই এক ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন প্যাকেজের প্রথম কিস্তি হাতে পাওয়ার কথা।
তবে মাস্ক বলছেন, এই পুরস্কার তাঁর জন্য শুধুই অর্থের বিষয় নয়।
এক্স-এ সেপ্টেম্বরের এক পোস্টে তিনি লেখেন, “এটা কোনো পারিশ্রমিকের বিষয় না। বরং, যদি আমরা লক্ষ লক্ষ রোবট বানাই, আমি চাই তখন টেসলার ওপর আমার যথেষ্ট প্রভাব থাকুক যেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। যদি এমন হয়, ভবিষ্যতে কিছু শেয়ারহোল্ডার পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান—যারা নিজেরাও টেসলার শেয়ারধারী না—আমাকে সরিয়ে দিতে পারে, তাহলে সেই ভবিষ্যতকে আমি নিরাপদ মনে করি না।”
বুধবার দিন শেষে মাস্কের মোট সম্পদ আনুমানিক ৪৯৯.১ বিলিয়ন ডলার ছিল।