আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীচাপ সামাল দিতে ৩ মার্চ থেকে অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। একই সঙ্গে দেশের পাঁচটি রুটে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে। গত বৃহস্পতিবার রেল মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম–চাঁদপুর, ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ, ভৈরববাজার–কিশোরগঞ্জ (শোলাকিয়া), ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ এবং জয়দেবপুর–পার্বতীপুর রুটে বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঈদের আগে ও পরে উভয়মুখী যাত্রায় এসব ট্রেন যাত্রীচাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে শোলাকিয়া ঈদগাহে নামাজ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জগামী যাত্রীদের জন্য আলাদা ট্রেন থাকায় ভিড় ও বিশৃঙ্খলা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সূচি মেনে ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে বাড়তি প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে যাত্রীভোগান্তি কমাতে অঞ্চলভেদে সময় আলাদা রাখা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে বিক্রি হবে। ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন যাত্রার তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদের চাঁদ দেখার পর ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির তারিখ ঘোষণা করা হবে।
এ বছর অগ্রিম ও ফিরতি—উভয় যাত্রার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিজন যাত্রী যাওয়া ও ফেরার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সর্বোচ্চ চারটি করে টিকিট কিনতে পারবেন। বিশেষ ট্রেন ছাড়া অন্যান্য ট্রেনের টিকিট ফেরতযোগ্য হবে না। তবে যাত্রার দিন যাত্রীচাপ বিবেচনায় মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট (উচ্চ শ্রেণি ছাড়া) স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে। ১৩ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি চলবে।
ঈদের অতিরিক্ত যাত্রীচাপ মোকাবিলায় ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে মেরামত করা ৪৭টি মিটারগেজ কোচ ঈদের আগেই যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করা হবে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রেলভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীন জানান, ঈদযাত্রায় যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে ট্রেন পরিচালনা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ—সব বিভাগে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
