জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন ‘জুলাই সনদ’-এ সই করেনি

১. আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তির অভাব:

* এনসিপি জুলাই সনদকে স্রেফ রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি মনে করে না, বরং এটিকে রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক ভিত্তি নির্মূল এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রধান কাজ মনে করে।

* এ কারণে সনদের সুস্পষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি থাকতে হবে বলে তারা মনে করে।

২. বাস্তবায়ন পদ্ধতির উল্লেখ না থাকা:

* রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল যে, সনদটি জুলাই সনদ আদেশ > গণভোট > সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনে সক্ষম গাঠনিক ক্ষমতা সম্পন্ন আগামী সংসদ (দ্বৈত ভূমিকা)— এই প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন হবে।

* কিন্তু সনদের অঙ্গীকারনামায় বাস্তবায়ন পদ্ধতির উল্লেখ নেই, যা এনসিপি মনে করে জনগণের সাথে প্রতারণা। কারণ অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

৩. বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া দেখার শর্ত:

* এনসিপি বলেছে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের টেক্সট এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দেখার পরই সনদে সই করবে।

৪. জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তিনটি অতিরিক্ত দাবি:

* ক. প্রকাশ: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের টেক্সট এবং গণভোটের প্রশ্নটি চূড়ান্ত করে আগেই জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে।

* খ. জারি: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস জারি করবেন।

* গ. নোট অব ডিসেন্টের কার্যকারিতা: গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সনদে রায় দিলে নোট অব ডিসেন্টের কোনো কার্যকরিতা থাকবে না। গণভোটের রায় অনুযায়ী আগামী নির্বাচিত সংসদ তাদের উপর প্রদত্ত গাঠনিক ক্ষমতা (Constituent Power) বলে সংবিধান সংস্কার করে যার নাম হবে ‘বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬’।

এনসিপি মনে করে, এই বিষয়গুলির নিশ্চয়তা ছাড়া সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত হবে না। তারা এই শর্তগুলির স্পষ্ট উল্লেখ নিশ্চিত করেই সনদে স্বাক্ষর করবে।