৫২ বছর পর ব্রিকলেনে পুনর্মিলনীতে ১৯৭৩ সালের সহপাঠীরা

লন্ডন প্রতিনিধি:

পূর্ব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ব্রিকলেনে ৫২ বছর পর পুনর্মিলনীতে মিলিত হলেন রবার্ট মন্টিফিউরি সেকেন্ডারি স্কুলের ১৯৭৩ সালের ব্যাচের কয়েকজন প্রাক্তন সহপাঠী। গত সোমবার দুপুরে তাঁরা একত্রিত হন স্থানীয় “আমার গাঁও” রেস্টুরেন্টে। পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা, হাসি–আনন্দ আর বন্ধুত্বের উষ্ণতায় মুখর ছিলো আয়োজনটি।

ব্রিকলেন মসজিদে নামাজের সময় তাঁদের সঙ্গে দেখা হলে আমাকেও সেই মিলনমেলায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

এই ঘরোয়া পরিবেশে আয়োজিত পুনর্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট পত্রিকার অনারারি চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত হাউজিং ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ মফিজুর রহমান, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক একাধিকবারের লিডার হেলাল আব্বাস, ১৯৭৮ সালের বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা আলহাজ রফিক উল্লাহ, এবং কমিউনিটি নেতা মো. শফিক আহমদ।

রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পথে হিনেজ স্ট্রিটের মোড়ে দাঁড়িয়ে শেখ মফিজুর রহমান স্মৃতিচারণা করেন সত্তরের দশকের বর্ণবাদী হামলার এক ভয়াবহ ঘটনার। তিনি বলেন,

“সে সময় ব্রিকলেনে বাংলাদেশি ও এশিয়ানদের উপর স্কিনহেড ও ন্যাশনাল ফ্রন্টের সদস্যরা হামলা চালাত। একদিন তারা এক বাংলাদেশি মুরুব্বীকে মারধর করে। পরদিন আমরা কয়েকজন তরুণ প্রতিবাদে হিনেজ স্ট্রিটে মানববন্ধন করি। তখন পুলিশ ঘোড়াসহ আসে, এবং এক পুলিশ ঘোড়ার পিঠ থেকে আমাকে বুট দিয়ে মাথায় লাথি মারে। আমি মাটিতে পড়ে যাই, কিন্তু সে নির্বিকারভাবে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। পরে পুলিশ কয়েকজন প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করে।”

এ সময় আলহাজ রফিক উল্লাহও তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন,“স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিনই সাদা ছাত্রদের হাতে মার খেয়েছিলাম। পরে আমরা সবাই একত্র হয়ে বর্ণবাদীদের বিরুদ্ধে লড়েছি।”

এই প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাই ছিলেন ১৯৭৮ সালের আলতাব আলী হত্যাকাণ্ডের পর বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাগে। তাঁরা হাজারো মানুষের সঙ্গে মিলে হাইড পার্ক পর্যন্ত বিশাল মিছিল নিয়ে যান, দাবি জানান ন্যায়বিচারের।

সেদিনের সেই তরুণরাই আজ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সমাজের গর্ব। তাঁদের সাহসিকতা ও ত্যাগের ফলেই আজকের প্রজন্ম একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজে বসবাস করছে।