প্রিন্স হ্যারি বলেছেন, ব্রিটিশদের বিশেষত্ব হলো তাদের স্বতঃস্ফূর্ত ‘বান্টার’ বা রসিকতা। স্মরণ দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে সাসেক্সের ডিউক উল্লেখ করেন, পাব, খেলার মাঠ কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় যে হাস্যরস ও আত্ম-বিদ্রূপ দেখা যায়, সেটাই ব্রিটিশ সংস্কৃতির মূল বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করলেও প্রিন্স হ্যারি লিখেছেন, “ব্রিটেনই সেই দেশ, যার জন্য আমি গর্বের সঙ্গে কাজ করেছি এবং যুদ্ধ করেছি।” আফগানিস্তানে যুদ্ধ করা প্রিন্স হ্যারি কানাডায় সামরিক ভেটেরানদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন এই সপ্তাহে। তিনি আহ্বান জানান, যেন ভেটেরানরা ইউনিফর্ম খুলে ফেলার পরও যেন তাদের অবদান স্মরণ করা হয়।
প্রবন্ধে তিনি তার কাকা অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বিতর্কে কোনো মন্তব্য না করলেও বলেন, “মেস, ক্লাবহাউস, পাব কিংবা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যে উল্লাস দেখা যায়, তা-ই আমাদের ব্রিটিশ করে তোলে। আমি এগুলো ভালোবাসি।”
তিনি ইউক্রেনের জনগণের মধ্যে থাকা ব্রিটিশদের মতো আত্ম-বিদ্রূপ এবং হাস্যরসের কথাও উল্লেখ করেন, যারা রুশ আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করছেন।
“স্মরণ দিবস কখনোই যুদ্ধের মহিমা প্রচারের জন্য নয়,” লিখেছেন তিনি। “এটা হলো যুদ্ধের মূল্য ও ত্যাগকে স্বীকৃতি জানানো এবং যারা সেই মূল্য জেনেও সেবা করেছেন তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।”
এই বক্তব্য সামনে এলো এমন সময়, যখন তার ভাই প্রিন্স উইলিয়াম ব্রাজিলে ‘আর্থশট’ পরিবেশ পুরস্কারের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রিন্স হ্যারি সম্প্রতি এক পডকাস্টে তার আমেরিকান সংস্কৃতি অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। হোস্ট হাসান মিনহাজের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন তিনি “সার্ফিং” করেন, কিন্তু কুর্স লাইট বিয়ার পান বা রেস্টুরেন্টে শর্টস পরে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেননি।
সোশ্যাল মিডিয়ার বিপদ সম্পর্কে তরুণদের সতর্কও করেন প্রিন্স হ্যারি, বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সূত্র: বিবিসি