আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট বিএনপিতে দেখা দিয়েছে প্রবাসী নেতাদের চমক। সিলেট বিভাগের মোট ১৯টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে তিনটি আসনে দলীয় হেভিওয়েট নেতাদের পিছনে ফেলে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রবাসী নেতারা। এছাড়া, বাকি পাঁচটি আসনের যেকোনো একটি বা একাধিক আসনে নতুন করে প্রবাসী প্রার্থী আসার সম্ভাবনা নিয়েও জোর গুঞ্জন চলছে।
সোমবার ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করে বিএনপি। সিলেট বিভাগে যেসব প্রবাসী নেতারা প্রার্থী হয়েছেন, তারা হলেন—
- সিলেট-৩: যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিক
- সুনামগঞ্জ-৩: যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমদ
- মৌলভীবাজার-২: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শওকত হোসেন
সিলেট-৩: এমএ মালিকের চমক
আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর এই আসনে উপনির্বাচনে জিতেছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। বিএনপির পক্ষ থেকে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন প্রবাসী এমএ মালিক, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের কারণে দেশে ফিরতে পারেননি। তাঁর গ্রামের বাড়িতে হামলা ও যুক্তরাজ্যে তাঁকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।
হেভিওয়েট নেতা ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূমকে টপকে এই আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ-৩: কয়ছর আহমদের উত্থান
যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমদও দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেশেও রাজনৈতিক হামলা-নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। গুঞ্জন ছিল, এমএ মালিক বা কয়ছর—এর মধ্যে একজনই মনোনয়ন পাবেন; কিন্তু দু’জনই প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন।
মৌলভীবাজার-২: শওকত হোসেনের চমক
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শওকত হোসেন। তিনি সাবেক উপজেলা বিএনপি নেতা হলেও সম্প্রতি কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হন। তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় মনোনয়নের দৌড়ে অন্যদের পেছনে ফেলে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
সিলেট অঞ্চলে প্রবাসীদের বড় প্রভাব থাকায় বিগত নির্বাচনগুলোতেও বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে তাদের মনোনয়ন দেয়া হতো। এমনকি প্রবাসী নেতারা সংসদে গিয়ে মন্ত্রী হওয়ার নজিরও আছে। চলতি নির্বাচনে বিএনপির এই মনোনয়ন তালিকা সেই ধারারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।