নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনে “আশা জিতেছে” বলে মন্তব্য করেছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান। তিনি বলেন, নিউইয়র্কবাসীরা যেমন ভয় নয়, আশা বেছে নিয়েছেন, একইভাবে লন্ডনের মানুষও এক সময় তা-ই করেছিলেন।
জোহরান মামদানি মঙ্গলবার রাতে ইতিহাস তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের প্রথম মুসলিম এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে। ১৮৯২ সালের পর তিনিই সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র। তার এই সাফল্য উদযাপন করতে গিয়ে সাদিক খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) লেখেন:
“নিউইয়র্কবাসী একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে—আশা আর ভয়ের মধ্যে। আর যেমন লন্ডনে দেখা গেছে—আশাই জিতেছে।”
তিনি মামদানিকে ট্যাগ করে আরও লিখেন: “ঐতিহাসিক প্রচারণার জন্য অসংখ্য অভিনন্দন।”
মুসলিম পরিচয়: “গুরুত্ব নেই, তবু তাৎপর্য আছে”
উভয় মেয়রই সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং নিজেদের শহরের প্রথম মুসলিম নেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তবে সাদিক খান টাইম ম্যাগাজিনে লেখেন, “দুই শহরের মেয়র মুসলিম হওয়া অবিশ্বাস্য হলেও, বাস্তবে এটি তেমন বড় বিষয় নয়,” কারণ তারা ভোট জিতেছেন নাগরিকদের সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে—ধর্মীয় পরিচয়ে নয়।
তবুও, উভয় নেতা তাদের মুসলিম পরিচয়ের কারণে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। সাদিক খান বলেছেন, তিনি জানেন কীভাবে তার সমালোচকেরা তাকে “ভিন্ন” হিসেবে চিহ্নিত করতে চেয়েছে, এবং তিনি মনে করেন মামদানিও একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি মামদানির সাহসের প্রশংসা করেন, যিনি নিজের ধর্মীয় পরিচয়ে গর্বিত থেকেও নেতৃত্ব দেখিয়েছেন।
ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানে মিল
সাদিক খান ও জোহরান মামদানি দুজনই ডোনাল্ড ট্রাম্প-বিরোধী মনোভাব পোষণ করেন। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নিউইয়র্কবাসীদের মামদানির পরিবর্তে অ্যান্ড্রু কুওমোকে সমর্থন করতে বলেন এবং হুমকি দেন, মামদানি জিতলে নিউইয়র্কের তহবিল সরিয়ে নেবেন। কিন্তু মামদানি জেতেন এবং বক্তৃতায় ট্রাম্পকে সরাসরি বলেন, “মনোযোগ দিয়ে শোনো,” এবং প্রতিশ্রুতি দেন “দুর্নীতির সংস্কৃতি” মোকাবিলায়।
সাদিক খান ও ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে উত্তাল। ২০১৯ সালে ট্রাম্প তাকে “ঠান্ডা মাথার লুজার” বলেছিলেন, আর প্রতিক্রিয়ায় সাদিক খান ট্রাম্পকে “বর্ণবাদী, লিঙ্গবিদ্বেষী, নারী বিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী” হিসেবে আখ্যা দেন।
বিবিসি লন্ডনের সঙ্গে কথোপকথনে সাদিক খান বলেন, “মানুষ ভাবছে, এমন কী আছে এই মুসলিম মেয়রের মধ্যে, যে সে একটি উদার ও বহু-সংস্কৃতির সফল শহর চালায়, কিন্তু তবুও যেন ট্রাম্পের মাথার ভেতর জায়গা দখল করে আছেন!”
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় সাদিক খান নিউইয়র্কের তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামসের সঙ্গে দেখা করেন, যিনি তাকে “রকস্টার মেয়র” বলে সম্বোধন করেন।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে, সাদিক খান ও জোহরান মামদানির মধ্যে আদর্শ এবং রাজনৈতিক মিল উভয় শহরের মানুষের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়—বৈচিত্র্য, গণতন্ত্র এবং আশার রাজনীতি এখনও সাফল্য আনতে পারে।