নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে সারাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭।
পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলীতে একটি পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে ৩ জন পথচারী নিহত হন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। স্থানীয়দের ধারণা, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে রেলিং ভেঙে নিচে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নরসিংদী: সবচেয়ে বেশি ৫ জনের মৃত্যু
জেলার তিনটি উপজেলায় প্রাণহানির সংখ্যা সর্বোচ্চ। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও ছিল নরসিংদীর মাধবদী-ঘোড়াশাল মধ্যবর্তী অঞ্চল।
নিহতরা হলেন—
- হোসেন (৩৭)
- তার ছেলে ওমর ফারুক (১০)
- কাজম আলী ভূইয়া (৭০)
- নাসির উদ্দিন (৫০)
- ফুরকান মিয়া (৪০)
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও একজনের বিষয়ে তিনি ‘আইসিইউতে’ আছেন বলে জানান।
এ ছাড়া মিটফোর্ড হাসপাতাল সূত্রে আরও তিনজনের—রাফিউল ইসলাম, আব্দুর রহিম ও মেহরাব হোসেন রিমন—মৃতদেহ মর্গে রাখা আছে বলে জানানো হয়।
রূপগঞ্জে ভূমিকম্পের সময় একটি দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের এক নবজাতক নিহত হয়। আহত হন নবজাতকের মা কুলসুম বেগম এবং প্রতিবেশী জেসমিন বেগম। স্থানীয়রা জানান, ভুলতা–গাউছিয়া সড়কের পাশের দেয়াল ধসে পড়ে তাদের ওপর চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নে ভূমিকম্পের সময়ে গাছ থেকে পড়ে সুজিত দাস (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া শাদেরগাঁও জামে মসজিদ ও এলাকার বিভিন্ন ভবনে ফাটল ও কাঠামোগত ক্ষতি দেখা গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৪৬১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করাই প্রধান কাজ। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ডেবরিস ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন দেখা দেয়নি।”