১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত, দাবি জামায়াত আমিরের

অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এটি কোনো সাধারণ জোট নয়, বরং জোটের চেয়েও অনেক বেশি মজবুত একটি নির্বাচনি সমঝোতা। দেশের ৩০০ আসনে বসে আলোচনার মাধ্যমে আসন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং মনোনয়ন জমার পর বাকি বিষয়গুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রবাসীদের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের প্রতি প্রবাসীদের ভালোবাসা চিরদিন অটুট থাকুক। প্রবাসে থেকেও তারা যেন দেশকে হৃদয়ে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার পথে আরও শক্তভাবে এগিয়ে যায়—এই কামনাই করি।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুলাই বিপ্লবের পরপরই দেশের প্রায় সব ইসলামি দলের নেতা ও শীর্ষ আলেমদের নিয়ে বৈঠক করেন জামায়াত আমির। সেখানে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব দিলে অধিকাংশ দলই তাতে সম্মতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বরে আট দলের ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে এলডিপি ও এনসিপি যুক্ত হওয়ায় এই সমঝোতা ১০ দলে রূপ নেয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শোষণ-বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে এই দলগুলো একসঙ্গে কাজ করছে। তিনি জানান, শেষ পর্যায়ে এসে আরও কয়েকটি দল আগ্রহ প্রকাশ করলেও সময় ও বাস্তবতার কারণে তাদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে দেশ গঠনের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নির্ধারিত সময়েই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে তারা। এজন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভয়ভীতি, লোভ বা পক্ষপাতমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা না হলে জাতি তা মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া ত্যাগ ও কোরবানির পথ পেরিয়ে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে জাতি নতুন আশার আলো দেখেছে। তরুণদের আত্মত্যাগের প্রত্যাশা পূরণ করা এই নেতৃত্বের দায়িত্ব।

আসন বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোনো একক দল সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না। ন্যায্যতার ভিত্তিতেই সবার মধ্যে আসন বণ্টন হবে। জামায়াত কতটি আসনে নির্বাচন করবে—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত প্রায় ১৯০টি আসনে এবং বাকি ৯ দল প্রায় ১১০টি আসনে প্রার্থী দিতে পারে। এর মধ্যে এনসিপি প্রায় ৩০টি, ইসলামী আন্দোলন ৩০টির বেশি এবং এলডিপি ছয়টি আসন পেতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এলডিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা। বক্তারা বলেন, এই ঐক্য কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, বরং দেশ, জাতি, মানবতা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি জাতীয় ঐক্য হিসেবে এগিয়ে যাবে।