বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার নীতিগত সিদ্ধান্তে বিমান বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোয়িংয়ের সঙ্গে মূল্য ও শর্তাবলি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিমান সূত্র জানায়, বোর্ড সভায় বোয়িংয়ের ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের বিক্রয় প্রস্তাব এবং ২০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ পাঠানো সংশোধিত খসড়া চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, বোয়িং কোম্পানি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯, ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। সভায় এ প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বোয়িং থেকে বড় পরিসরে বিমান কেনা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রপ্তানি শুল্কসংক্রান্ত ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়া সহজ হতে পারে।

এদিকে বোয়িং কোম্পানির বাণিজ্যিক বিমান বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান জানান, বোর্ডের অনুমোদন চূড়ান্ত চুক্তির আগে আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা মাত্র। চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কোনো আর্থিক বা আইনি দায়ে আবদ্ধ থাকবে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানের বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের বিমান পরিবহন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বিষয়ে দরদাম ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে শিগগিরই একটি কমিটি গঠন করবে বিমান কর্তৃপক্ষ। কমিটি বোয়িংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পাল্টা শুল্ক নিয়ে দরকষাকষির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মোট ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিমান আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে সরবরাহ বোয়িং কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা ও পূর্ববর্তী অর্ডারের ওপর নির্ভর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার ঘোষণার পর ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। ইউরোপের কূটনীতিকরা এমনকি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও এয়ারবাসের বিমান বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।