ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শনিবার মধ্যরাতে সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় একই সময়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কার্লোটা সামরিক বিমানঘাঁটি এবং ফুয়ের্তে তিউনা প্রধান সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর কারাকাসের বেশ কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
এই ঘটনার পরপরই ভেনেজুয়েলা সরকার দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে এবং এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়,
“ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের অত্যন্ত গুরুতর সামরিক আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে আমরা প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানাচ্ছি।”
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা শনিবার ভোরে কারাকাসে বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকার কথাও নিশ্চিত করেছেন।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক বহনকারী নৌযান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে এই হামলার ঘটনা ঘটল। এতে করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে দেশজুড়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার অভিযোগ করে আসছে, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো এবং দেশের বিপুল তেল মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতেই যুক্তরাষ্ট্র এমন সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বেড়েছে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।