ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর দেশ পরিচালনার ঘোষণা ট্রাম্পের, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভূমিকায় নতুন বিতর্ক

ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর পর দেশটির ভবিষ্যৎ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সময় ‘ফরএভার ওয়ার’-এর কড়া সমালোচক ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প এখন কার্যত একটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশের পুনর্গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার পথে এগোচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

শনিবার সকালে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, রাতভর পরিচালিত এক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে রাজধানী কারাকাস থেকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এরপর তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে একটি সমন্বয়কারী দল স্থানীয় ভেনেজুয়েলানদের সঙ্গে কাজ করে দেশটির দায়িত্ব সাময়িকভাবে গ্রহণ করবে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা দেশটি চালাবো যতদিন না নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ একটি উত্তরণ সম্ভব হয়।” তবে ‘দেশ চালানো’ বলতে তিনি কী বোঝাচ্ছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা তুলে ধরেননি।

এই ঘোষণাকে ট্রাম্পের পূর্বঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। নির্বাচনী প্রচারণায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও শাসন পরিবর্তনের বিরোধিতা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প এখন ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও দীর্ঘদিনের একনায়কতন্ত্রে জর্জরিত ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন।

সমালোচনার মুখেও আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর প্রশাসনের “জয়ের নিখুঁত রেকর্ড” রয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। তিনি জানান, দেশটির জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামো পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করা হবে, যা একদিকে পুনর্গঠনের অর্থায়নে সহায়ক হবে, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার জনগণের উপকারে আসবে।

মার্কিন সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলায় ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ পাঠাতে তিনি পিছপা হবেন না। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা মাটিতে সেনা পাঠাতে ভয় পাই না। গত রাতেও সেখানে আমাদের সেনারা ছিল।”

ইরাক যুদ্ধের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ট্রাম্পের সামনে এবার নতুন করে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলের সেই সতর্কবাণী—“আপনি যদি কিছু ভেঙে ফেলেন, তবে তার দায়ভারও আপনার।” বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি সম্পৃক্ততা শুধু দেশটির ভবিষ্যৎ নয়, বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মোড় হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র : বিবিসি