সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে লিডিং ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন, ৬ হাজার ১৯৩ শিক্ষার্থীর হাতে ডিগ্রি

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ সমাবর্তনে ছয় হাজার ১৯৩ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জুলাই বিপ্লবে তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে আত্মত্যাগ করেছে, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি নতুন ভোটারদের পরিবর্তনের পক্ষে সচেতনভাবে গণভোট প্রদানের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জনগণের নির্ভীক লড়াইয়ের মাধ্যমেই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এই সাহসী চেতনাকে ধারণ করেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দায়িত্বশীলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে, যাতে আগামী পাঁচ বছরে দেশকে নিয়ে পস্তাতে না হয়। এজন্য তিনি প্রার্থী নির্বাচনে বিচক্ষণতা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে। তরুণ প্রজন্ম গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে এসেছে, তাদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠন না হলে জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগ পূর্ণতা পাবে না। ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে সমাজের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভয় নয়, সাহস ও আত্মবিশ্বাস নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সমাবর্তনে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ১৫ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল ও কো-ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক ও গবেষক এবং পঞ্চব্রীহি মাল্টি-হারভেস্ট রাইস ভ্যারাইটি জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ রাগীব আলী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন।

সমাবর্তনে স্প্রিং ২০১৮ থেকে ফল ২০২৫ সেমিস্টার পর্যন্ত ব্যবসায় প্রশাসন, কলা ও আধুনিক ভাষা, সামাজিক বিজ্ঞান এবং আধুনিক বিজ্ঞান—এই চারটি অনুষদের অধীনে ১০টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রথম সমাবর্তনে ১৫৬ জন, দ্বিতীয় সমাবর্তনে এক হাজার ২১০ জন এবং তৃতীয় সমাবর্তনে চার হাজার ৭৩৪ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিক অগ্রগতি ও শিক্ষার বিস্তারের প্রতিফলন। সমাবর্তনের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।