অনলাইন ডেস্ক: ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং সম্ভাব্য মার্কিন প্রতিক্রিয়া ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন ও ব্রিটিশ সামরিক কর্মী প্রত্যাহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএসকে জানিয়েছেন, আল উদেইদ ঘাঁটি থেকে আংশিকভাবে কর্মী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে। বিবিসি জানিয়েছে, একই ধরনের পদক্ষেপের আওতায় কিছু ব্রিটিশ সামরিক সদস্যকেও ঘাঁটি ছাড়তে বলা হয়েছে। কাতার সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া এই ব্যবস্থা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি তেহরানে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ফরেন অফিস জানিয়েছে, দূতাবাসটি এখন দূরবর্তীভাবে কার্যক্রম চালাবে। দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও তাদের কর্মীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে এবং আল উদেইদ ঘাঁটিতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত সীমিত করতে পরামর্শ দিয়েছে।এদিকে ইরান বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে দুই ঘণ্টার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও পরে তা বাড়ানো হয়। এর জেরে এয়ার ইন্ডিয়া ও লুফথানসাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন ইরানের আকাশসীমা এড়িয়ে ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। যাত্রীদের দেরি বা ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০–এর বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাও সামনে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আল উদেইদ ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। সেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা এবং প্রায় ১০০ জন ব্রিটিশ কর্মী অবস্থান করছেন। ঠিক কতজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কাতার সরকার জানিয়েছে, নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা রক্ষায় তারা সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে “খুব কঠোর পদক্ষেপ” নিতে পারে। ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, হামলা হলে তারা প্রতিশোধ নেবে।কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এখনো শুরু না হলেও, দূতাবাস বন্ধ, আকাশসীমা বন্ধ এবং সামরিক ঘাঁটি থেকে কর্মী প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপগুলো স্পষ্ট করছে যে পরিস্থিতি দ্রুতই আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র : বিবিসি