‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে বিএনপির ইশতেহার, এআই ও আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার

নিউজ রিপোর্ট: রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির অঙ্গীকার করেছে দলটি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তারেক রহমান জানান, নির্বাচনি ইশতেহারে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এআই, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার উৎপাদনের হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এআই ও সাইবার নিরাপত্তাসহ পাঁচটি বিশেষ খাতে দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে আট লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইন্টারনেট সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সাবমেরিন ক্যাবল ও লো-অরবিট স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ৯৯ দশমিক ৯৯৯ শতাংশ নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইশতেহারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগ জোরদারের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, দেশীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা হবে। পাশাপাশি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন, শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন এবং সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

ডিজিটাল অর্থনীতির অংশ হিসেবে পেপ্যালসহ আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালু এবং জাতীয় ই-ওয়ালেট প্রবর্তনের মাধ্যমে ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয় বিএনপি। এছাড়া এআই-চালিত ডাটা সেন্টার ক্যাম্পাস, এজ ডাটা সেন্টার ও ক্লাউড প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।

স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ১০ বছরের করমুক্ত সুবিধা, ভর্তুকিযুক্ত ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার পাশাপাশি নাগরিক ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণে জাতীয় ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়। টেলিকম খাত উন্মুক্ত করে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবার মূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

তারেক রহমান বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মসংস্থানমুখী ও উদ্ভাবনী অর্থনীতিতে রূপান্তর করা হবে।