নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ার অধিগ্রহণে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু), জেএমসি বিল্ডার্স এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
হাইকোর্টে দাখিল করা বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতির ঘটনায় জেএমসি বিল্ডার্সের মাধ্যমে অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। প্রতিবেদনে কোম্পানিটির অন্যতম মালিক ও প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ বিএফআইইউর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিষয়টি অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেএমসি বিল্ডার্সের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনা হয় এবং সেই শেয়ার কেনার অর্থ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এবং পরে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএফআইইউর তদন্তে এসব অভিযোগ উঠে আসার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই হাইকোর্ট দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায়ও ঢাকা আদালত একই বিষয়ে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আদালতে কী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বা অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর তদন্ত এখনও চলমান এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
