নিউজ রিপোর্ট: পোস্টার, মিছিল আর ভুরিভোজের চেনা নির্বাচনি দৃশ্য না থাকলেও সিলেটে ভোটের উত্তাপ কমেনি। বরং শান্ত পরিবেশ, প্রার্থীদের সহনশীল আচরণ এবং ভোট দিতে গ্রামে ফেরার প্রবণতায় সিলেটের নির্বাচনি প্রচার ইতোমধ্যে ‘মডেল প্রচার’ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
নতুন আচরণবিধির কারণে পোস্টারিং ও আপ্যায়নের দৃশ্য অনুপস্থিত থাকলেও প্রার্থীদের প্রচারে কোনো ঘাটতি নেই। পাড়া-মহল্লা থেকে গ্রাম পর্যন্ত পথসভা, গণসংযোগ ও স্লোগানে দিন-রাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। এতে ভোটারদের আগ্রহও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।
ছয়টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত সিলেট জেলায় আনুষ্ঠানিক প্রচারের বড় একটি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংঘাত বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। জেলার ছয় আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩৩ জন প্রার্থী নির্বিঘ্নে প্রচার চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, গত ১৫ দিনে কোনো অঘটন ঘটেনি, কোনো প্রার্থী বাধার মুখে পড়েছেন—এমন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ পিপিএম। তার ভাষ্য, ছোটখাটো দু-একটি স্থানীয় ঘটনা ছাড়া বড় কোনো সমস্যা হয়নি। সব কেন্দ্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীও ভোটের পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবার বিপুলসংখ্যক ভোটার ভোট দিতে যাবেন বলে তার বিশ্বাস।
সিলেট জেলার ছয় আসনে মোট ভোটার ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৫২ জন। শহর ও গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ভোটের দিন নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকেই প্রথমবার ভোট দেওয়ার উত্তেজনায় মুখর, আবার প্রবীণ ভোটাররাও ভোটাধিকার প্রয়োগে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।
তবে পোস্টার ও আপ্যায়নবিহীন প্রচারে নির্বাচনের আগের উৎসবের আমেজ নেই বলে আক্ষেপও শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, খাওয়া-দাওয়া আর পোস্টারের কোলাহল না থাকায় নির্বাচন যেন একটু শুকনো লাগছে।
রাজনৈতিকভাবে সিলেটের ছয়টি আসনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও জোট প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতিতে লড়াই আরও জমে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে সংঘাতহীন প্রচার, প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সিলেটের নির্বাচনকে একটি দৃষ্টান্তমূলক বা ‘মডেল নির্বাচন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
