নিউজ রিপোর্ট: ব্রিটিশ রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য প্রিন্স উইলিয়ামের প্রথম সৌদি আরব সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিল কূটনৈতিক বাস্তবতা। যুক্তরাজ্য সরকারের অনুরোধেই তিনি এই সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এক রাজকীয় সূত্র। সূত্রের ভাষায়, “প্রিন্স অব ওয়েলস হিসেবে তিনি নিজের দায়িত্বকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেন। সরকার যখন যেতে বলে, তিনি যান।”
আগামী সোমবার শুরু হতে যাওয়া এই সফর আগের সরকারি সফরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। এস্তোনিয়া, পোল্যান্ড, ব্রাজিল বা দক্ষিণ আফ্রিকার সফরের সঙ্গে সৌদি আরবের তুলনা চলে না। মানবাধিকার, রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির প্রশ্নে সৌদি আরব একটি আলাদা মাত্রার চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
সফরের মূল আলোচ্য বিষয় হবে জ্বালানি রূপান্তর এবং তরুণ সমাজ। সৌদি আরব বর্তমানে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে এবং সমাজ ও সংস্কৃতিতেও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রিন্স উইলিয়াম এমন এক সৌদি আরবে যাচ্ছেন, যা তাঁর দাদি রানী এলিজাবেথের দীর্ঘ শাসনামলে দেখা সৌদি আরবের চেয়ে ভিন্ন। যদিও দেশটি এখনো একটি কর্তৃত্ববাদী রাজতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত, তবুও সাংস্কৃতিক পরিসরে কিছুটা উন্মুক্ততা দেখা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক বিনোদন ও ক্রীড়া আয়োজন বেড়েছে। রিয়াদ কমেডি ফেস্টিভ্যাল, রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, সৌদি ফর্মুলা ওয়ান গ্রাঁ প্রি এবং ২০৩৪ সালের পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব তারই উদাহরণ। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এসব আয়োজনের মাধ্যমে সৌদি নেতৃত্ব তাদের মানবাধিকার রেকর্ড আড়াল করার চেষ্টা করছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একাধিকবার বলেছেন, এসব উদ্যোগ অর্থনীতির জন্য ভালো হলে সমালোচনার তোয়াক্কা করেন না।
এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে প্রিন্স উইলিয়ামের বৈঠক। এমবিএস নামে পরিচিত এই যুবরাজ সৌদি আরবের কার্যত শাসক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত বিতর্কিত একটি নাম।
সফরের আগে প্রিন্স উইলিয়ামকে বিস্তারিতভাবে ব্রিফ করা হয়েছে। সৌদি আরবে সমকামী সম্পর্কের অপরাধীকরণ, রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন, প্রকাশ্য প্রতিবন্ধকতা এবং নারীদের সীমিত অধিকার সম্পর্কে তিনি অবগত। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীদের গাড়ি চালানোর মতো কিছু স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, তবুও পুরুষদের তুলনায় তাদের অবস্থান এখনো অনেক পিছিয়ে।
প্রশ্ন উঠছে, যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকে কি এসব স্পর্শকাতর বিষয় আলোচনায় আসবে? কেনসিংটন প্যালেস ব্যক্তিগত আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, প্রিন্স উইলিয়াম অন্তত কিছু কঠিন বিষয় আলাপের টেবিলে তুলতে পারেন।
এই সফরে তাকে দিকনির্দেশনা দেবে লন্ডনের ফরেন অফিস ও সৌদি আরবে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস। লক্ষ্য একটাই—সংবেদনশীল এই কূটনৈতিক পথে এগিয়ে গিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ইতিবাচক ফল নিশ্চিত করা।
