যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মান দেখানোর আহ্বান ইরানের প্রেসিডেন্টের, পরমাণু আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে পরমাণু ইস্যুতে নতুন দফার আলোচনার আগে ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠককে তিনি “একটি অগ্রগতি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি-তে নির্ধারিত অধিকার অনুযায়ী পরিচালিত। তিনি বলেন, ইরানি জাতি সবসময় সম্মানকে সম্মান দিয়ে জবাব দিয়েছে, তবে শক্তির ভাষা তারা মেনে নিতে পারে না।

ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কেবল পরমাণু ইস্যুকেন্দ্রিক আলোচনায় আগ্রহী এবং এই আলোচনার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিরোধিতা করছে। দেশটির কর্মকর্তারা সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরছেন।

এদিকে তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক ফোরামে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন। তার ভাষায়, বিপ্লবের আগে জনগণ বিশ্বাস করত না যে তৎকালীন শাসনব্যবস্থা প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ছিল।

আরাঘচি আরও বলেন, বেসামরিক কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে ইরান সরে আসবে না, এমনকি এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সামরিক হামলার ঝুঁকি বাড়লেও না। তিনি বলেন, “আমাদের কী থাকতে পারবে আর কী পারবে না, তা বলার অধিকার কারও নেই।”

তবে একই সঙ্গে তিনি আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও জানান। ওমানের মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আরাঘচি বলেন, আলোচনার বিকল্প নেই। চীন ও রাশিয়াকেও আলোচনার বিষয়বস্তু জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আরাঘচি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়াই সবচেয়ে বড় ক্ষতি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “সুন্দর নৌবহর” মোতায়েনের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অতীতের মতো এবারও এসব কর্মসূচিতে সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে।