জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধারণে প্রথা ভেঙে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্মৃতি ধারণসহ চারটি বিশেষ কারণ বিবেচনায় নিয়ে প্রথা ভেঙে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাকে ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ও দক্ষিণ প্লাজা নিবিড়ভাবে জড়িত। এছাড়া সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা শহীদ ওসমান হাদির জানাজাসহ নানা কারণে স্থানটি স্মৃতিবিজড়িত ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনাতেই সেখানে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আইন উপদেষ্টা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ঐতিহাসিক দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এর আগে একই দিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথ পরিচালনা করবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। এমপিদের শপথ শেষে সরকারি দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হবে বলে জানান আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা প্রস্তুত করছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করতে চায় বিএনপি

মঙ্গলবারের শপথ অনুষ্ঠানকে ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় করে রাখতে চায় বিএনপি। দলটির নেতারা মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মৃতি ধারণের জন্য দক্ষিণ প্লাজা সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দক্ষিণ প্লাজার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এখানে জুলাই সনদের স্বাক্ষর হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছিল এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওসমান হাদির জানাজাও এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এ কারণে স্থানটি জাতির স্মৃতিতে বিশেষভাবে ধারণ করা আছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। প্রবীণ থেকে তরুণ—সব বয়সের মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে আহত ও ত্যাগ স্বীকার করা মানুষদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। এসব সংগ্রাম ও ত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রত্যাশা ছিল বিএনপির।

দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের আবেগ ও ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ আয়োজন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানায় বিএনপি। দলটি আশা করছে, এই শপথের মধ্য দিয়ে দেশ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।