সিলেট: সিলেট-২ (ওসমানীনগর–বিশ্বনাথ) আসনের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও দলের চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির-কে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালোভাবে উঠেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় তার ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মন্ত্রী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন কবির এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এতে মনোনয়ন পান তাহসিনা রুশদীর লুনা। নির্বাচনের পর হুমায়ুন কবির প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যা দলীয় অনুসারীদের কাছে রাজনৈতিক পরিপক্বতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন ও কূটনৈতিক যোগাযোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন হুমায়ুন কবির। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে। বিষয়টি সিলেট-২সহ পুরো সিলেট বিভাগে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
সিলেট-২ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী মন্ত্রিত্ব লাভ করেছিলেন। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। তবে স্বাধীনতার পর এ আসন থেকে বিএনপি এখনো কাউকে মন্ত্রিসভায় পাঠাতে পারেনি। হুমায়ুন কবির মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে তিনি হবেন সিলেট-২ থেকে বিএনপির প্রথম মন্ত্রী।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. গয়াছ মিয়া বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে হুমায়ুন কবির যে রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন, তা তাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে আসনের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়বে এবং তৃণমূল নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হবেন।
যদিও মন্ত্রিত্বের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও সিলেট-২সহ পুরো বিভাগে হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে মন্ত্রিত্বের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এখন দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
