আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া:
মালয়েশিয়ায় সক্রিয় একটি অভিবাসী পাচার চক্রের কার্যক্রম ভণ্ডুল করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কুয়ালালামপুর সংলগ্ন ক্লাং এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে একটি গাড়ির রং করার ওয়ার্কশপ থেকে চক্রটির মূলহোতাসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ওয়ার্কশপটি ‘নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার ২ মার্চ, অভিযানটি পরিচালনা করে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ। বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিক এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি পূর্ব উপকূলীয় সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে অভিবাসীদের দেশে প্রবেশ ও অভ্যন্তরীণ চলাচলের ব্যবস্থা করতেন।
মহাপরিচালক আরও জানান, মূল সন্দেহভাজনের পাশাপাশি ৩৪ থেকে ৩৮ বছর বয়সী আরও তিন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দালাল, পরিবহনকারী এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা অভিবাসীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং গোপনে রাখার দায়িত্বে ছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, চক্রটি বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অভিবাসী এনে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কর্মস্থলে কাজের প্রলোভন দেখাত। বাস্তবে তাদের অনিরাপদ ও অনিশ্চিত অবস্থায় রেখে আর্থিকভাবে শোষণ করা হতো। মূলহোতা দেশে প্রবেশ, অবস্থান এবং স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া সমন্বয় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান চলাকালে আরও তিন বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়, যাদের বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারাও এই চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত ও শোষণের শিকার হয়েছেন। যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, তাদের কারও বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের রেকর্ড নেই।
আটক সাতজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য পুত্রজায়া-তে ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (অপ্টিজম) আইন ৬৭০ এবং অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫) অনুযায়ী তদন্তাধীন রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভনে প্রতারিত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
