বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টি আইনে পাওয়া এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। দেশের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয় জয়।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। এরপর বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে গেলে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের জয় পায় স্বাগতিকরা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।

অধিনায়ক জস ইংলিশ ও কুপার কনোলি তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে ১৯ রান করা ইংলিশকে ফিরিয়ে দেন নাহিদ রানা। পরে ৩৫ রান করা কনোলিকে বোল্ড করেন মোসাদ্দেক হোসেন।

৪৭ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার মধ্যক্রমে বড় আঘাত হানেন নাহিদ। এরপর ম্যাট রেনশ, লিয়াম স্কট ও জ্যাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান বাংলাদেশের বোলাররা।

শেষদিকে ক্যামেরন গ্রিন অপরাজিত ৫০ রান করে কিছুটা লড়াই চালিয়ে গেলেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। ৪২.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯১/৯, এরপর বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে ডিএলএস পদ্ধতিতে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে সাইফ হাসানকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে মজবুত ভিত্তি এনে দেন।

তানজিদ ৫৪ রান করে আউট হলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গড়েন শান্ত। তিনি ৬৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। তবে লিটন দাস মাত্র ৭ রান করে ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে দলের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ ৭৫ রানের জুটি গড়েন। হৃদয় ৩১ রান করে ফিরলেও চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটির দিনে ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের কার্যকর ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ২৮৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায়।

ব্যাট হাতে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস এবং বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ম্যাচসেরা হওয়ার দাবিদার হয়ে ওঠেন মোসাদ্দেক হোসেন। এই জয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটিতে স্মরণীয় এক অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ।