হজ ও ওমরা পালনকারীদের যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত এবং আরামদায়ক করতে মক্কায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সৌদি আরব। এর অংশ হিসেবে নতুন একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর এবং আধুনিক মেট্রোরেল ব্যবস্থা নির্মাণের কাজ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ‘রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড দ্য হোলি সাইটস’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আল-রশিদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মক্কায় প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নির্মাণের বিস্তারিত সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়গুলো অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি কার্যকর বিনিয়োগ কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।
সালেহ আল-রশিদ বলেন, নতুন বিমানবন্দরটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে যাতে মক্কার বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা সর্বোচ্চ সুবিধা পান, পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী শহরের বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর অর্থনৈতিক ভারসাম্যও বজায় থাকে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল প্রকল্পও দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ও প্রাথমিক নকশা সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপের অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। এই মেট্রোরেল চালু হলে হজ ও ওমরার সময় অতিরিক্ত ভিড় কমবে এবং যাতায়াতের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
গণপরিবহন ব্যবস্থায়ও ইতোমধ্যে বড় উন্নয়ন ঘটেছে। বর্তমানে ১২টি রুটে ৪০০টি বাস চলাচল করছে, যা ৪৩০টি স্টপ এবং কেন্দ্রীয় এলাকার চারটি প্রধান স্টেশনকে সংযুক্ত করছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এ সেবা ১৮ কোটি ৫০ লাখের বেশি যাত্রীকে পরিবহন করেছে।
সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় রিং রোড চালু হওয়ায় মসজিদুল হারামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত সহজ হয়েছে। বিশেষ করে কিং আব্দুল আজিজ রোড ও ইব্রাহিম আল খলিল রোডে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসব উন্নয়ন কার্যক্রম সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির অংশ, যার লক্ষ্য মক্কার আধুনিকায়নের পাশাপাশি হজ ও ওমরার সময় আগত মুসল্লিদের জন্য উন্নত ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করা।
