উয়েফার (UEFA) মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এক নারীকে দেওয়া ছয় অঙ্কের অর্থমূল্যের একটি ‘বিদায়কালীন পেমেন্ট’ নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ওই অর্থ প্রদানের পেছনে অনৈতিক আচরণ বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছে ফিফা।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র The Telegraph প্রথমে অভিযোগটি প্রকাশ করে। সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিশ্ব ফুটবলের চাপে থাকা প্রধান ইনফান্তিনোর সঙ্গে ওই নারীর কথিত সম্পর্কের কারণে তাকে অর্থ প্রদান করা হয়েছিল।
তবে ইনফান্তিনো অভিযোগটি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।
ফিফার এক মুখপাত্র The Telegraph-কে বলেন, “ইনফান্তিনো এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছেন এবং এগুলো সম্পূর্ণ অসত্য।” একই বিবৃতিতে বলা হয়, অনৈতিক আচরণ বা ফিফার কোনো বিধি ও নিয়ম লঙ্ঘনের ইঙ্গিতও ‘মানহানিকর’।
এ বিষয়ে ফিফার কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অতিরিক্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অর্থ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উয়েফা
উয়েফা ওই নারীকে অর্থ প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সংস্থাটির দাবি, অর্থ প্রদানের সময়কার নিয়ম অনুযায়ী এই পেমেন্ট অস্বাভাবিক ছিল না। যদিও পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ বিধিমালা আরও কঠোর করা হয়েছে।
উয়েফার মহাসচিব থাকাকালে ইনফান্তিনো সংস্থাটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এরপর থেকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফিফার ওপর বাড়ছে চাপ
ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ফিফা ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত অধিকার আংশিকভাবে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র চাপের মুখে রয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগে ওই পরিকল্পনার তথ্য ফাঁস হওয়ার পর ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পনাটি বাতিল করা হলেও বিতর্ক থামেনি।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, যার সদস্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দেশগুলো, ফিফার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমনকি বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কট করার সম্ভাবনার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
উয়েফার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানানো হয়েছে।
ফলে একদিকে ব্যক্তিগত আচরণ ও অর্থ প্রদানের অভিযোগ, অন্যদিকে ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ, সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নতুন করে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। তবে তিনি অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন।
