বাংলাদেশে গত এক মাসে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু এবং ১৯ হাজারের বেশি আক্রান্তের তথ্য প্রকাশ করেছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই প্রাদুর্ভাবের রূপ নিয়েছে এবং তা মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ও আইসিইউ সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে, যেখানে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
এদিকে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই আবার বাড়ছে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৫৭টি দেশে বড় ধরনের হাম সংক্রমণ দেখা গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ হাম প্রাদুর্ভাব রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্বব্যাপী নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছিল। ফলে বহু শিশু নির্ধারিত সময়ের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশে টিকাবিরোধী প্রচারণাও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
যদিও ২০০০ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে হাম সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল, সাম্প্রতিক এই পুনরুত্থান সেই অগ্রগতিকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দ্রুত টিকাদান কভারেজ বাড়ানো না গেলে অনেক দেশেই হাম মহামারির আকার নিতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
