যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের ভুয়া দাবি নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যখন BBC-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে কিছু অভিবাসীকে দেশে থাকার জন্য মিথ্যা তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে থাকা কিছু অভিবাসীকে নিজেদের সমকামী বা গার্হস্থ্য সহিংসতার শিকার হিসেবে উপস্থাপন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তাদের ভুয়া প্রমাণ তৈরি করার কৌশলও শেখানো হচ্ছে, যেমন জাল সমর্থনপত্র, ছবি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর নং ১০ জানিয়েছে, আশ্রয় সংক্রান্ত দাবিগুলো যাচাই করার জন্য “কঠোর ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা” রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইস অথরিটি একসঙ্গে কাজ করছে, যাতে কেউ যদি অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু আইনজীবী ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অভিবাসীদের কাছ থেকে হাজার হাজার পাউন্ড নিয়ে তাদের মিথ্যা কাহিনি সাজাতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে পাকিস্তান বা বাংলাদেশে ফিরে গেলে জীবনহানির আশঙ্কার কথা তুলে ধরে আশ্রয়ের আবেদন করার জন্য এমন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও, সরকার যে নিয়ম চালু করেছিল প্রকৃত গার্হস্থ্য সহিংসতার শিকারদের দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দিতে, সেটিও কিছু ক্ষেত্রে অপব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু অভিবাসী ব্রিটিশ নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক বা বিয়ে করে পরে মিথ্যা নির্যাতনের অভিযোগ এনে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বর্তমানে গার্হস্থ্য সহিংসতার ভিত্তিতে দ্রুত স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীর সংখ্যা বছরে ৫,৫০০-র বেশি, যা গত তিন বছরে ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
বিরোধী দলগুলো পুরো আশ্রয় ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানিয়েছে, যাতে ভুয়া দাবিগুলো প্রতিরোধ করা যায় এবং প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীরা ন্যায্য সুযোগ পায়।
