স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের আরাগোনেস ডার্বিতে উত্তপ্ত ঘটনার জেরে বড় শাস্তির মুখে পড়েছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদা। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ঘুষি মারার ঘটনায় তাকে ১৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
গত রোববার রিয়াল জারাগোজা ও হুয়েস্কা-র মধ্যকার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। টাচলাইনের কাছে হুয়েস্কার ডিফেন্ডার জর্জ পুলিদো-র সঙ্গে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রথমে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন আন্দ্রাদা। এতে রেফারি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন।
তবে মাঠ ছাড়ার আগেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এই গোলরক্ষক। দৌড়ে গিয়ে পুলিদোকে সজোরে ঘুষি মারেন তিনি। এরপর দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এই পরিস্থিতিতে হুয়েস্কার গোলরক্ষক দানি জিমেনেজও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আন্দ্রাদার মাথার পেছনে আঘাত করেন। ফলে তাকেও লাল কার্ড দেখান রেফারি। জারাগোজার দানি তাসেন্দেও একই শাস্তির মুখে পড়েন।
ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জিতে নেয় হুয়েস্কা। লিগ টেবিলের তলানিতে থাকা দুই দলের রেলিগেশন লড়াইকে ঘিরেই ম্যাচে এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শাস্তির বিষয়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন জানায়, প্রতিপক্ষের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে তেড়ে যাওয়া এবং পরে ঘুষি মারার ঘটনাকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। লাল কার্ডের জন্য এক ম্যাচ এবং ঘুষি মারার জন্য অতিরিক্ত ১২ ম্যাচ মিলিয়ে মোট ১৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে আন্দ্রাদাকে। পাশাপাশি তাকে ও তার ক্লাবকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিজের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন আন্দ্রাদা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “যা ঘটেছে, তার জন্য আমি খুবই দুঃখিত। এটি একজন পেশাদারের জন্য খারাপ উদাহরণ। আমি মনোযোগ হারিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি। জর্জ পুলিদোর কাছেও ক্ষমা চাইছি।”
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও ফুটবল মাঠে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের গুরুত্ব সামনে এসেছে।
