মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বড় ধরনের মুনাফা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান Shell। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তেলের দামের ব্যাপক ওঠানামা এবং পেট্রোল ও জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্যের কারণে তাদের মুনাফা ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের প্রথম তিন মাসে শেলের আয় দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধু শোধনাগার খাত থেকেই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এসব শোধনাগারে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়।
এর আগে গত সপ্তাহে আরেক জ্বালানি কোম্পানি BP-ও প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা দ্বিগুণ হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে তেলের দামে যে অস্বাভাবিক ওঠানামা তৈরি হয়েছে, তা থেকে বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ট্রেডিং বিভাগ উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়েছে।
শেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়েল সাওয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতার মধ্যেও শেল শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল অর্জন করেছে।
তবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত বছরের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় তাদের মোট তেল ও গ্যাস উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে কাতার-এ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ায় তেল কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের দাবি জানিয়েছে জ্বালানি দারিদ্র্য দূরীকরণ জোট। সংগঠনটি বলছে, ইরান যুদ্ধের কারণে বাড়তে থাকা গৃহস্থালি জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব কমাতে সরকারকে ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।
সূত্র: CNN
